ডুমুরিয়ায় বাঁধ দিয়ে বিলের পানি নিঃষ্কাশনে বাঁধা: খাল উন্মুক্তের দাবী

0
24

ডুমুরিয়া (ডুমুরিয়া) সংবাদদাতা

ডুমুরিয়ার শোভনার বারুইকাটি বিলের পানি নিঃষ্কাশনের পথ বন্ধ করে সরকারি খাল দখল করে মৎস্য ঘের তৈরির অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে বারুইকাটি বিলের প্রায় ১২’শ বিঘা ফসলী জমিসহ বসত বাড়ি ঘর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের মাঝে চরম ক্ষুদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এর প্রতিবাদ জানাতে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে খাসখালে নির্মিত বাঁধ অপসারণসহ উন্মুক্ত রাখতে ঘটনা স্থলে সমাবেত হন স্থানীয় এলাকাবাসী। এসময় তারা প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেন।

স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের মাদারতলা মৌজাধীন বারুইকাটি স্লুইচ গেটের পদ্মমারি সরকারি খাসখাল দিয়ে বারুইকাটি বিলের ১২’শ বিঘা জমির পানি নিঃস্কাশন হয়। কিন্তু এলাকার মৃত জনৈক ধীরেন্দ্রনাথ মিস্ত্রির নামে গেটের খালের সরকারি ১ একর জমি জনস্বার্থে ব্যবহার্যে শর্তসাপেক্ষে বন্দোবস্ত নেয়। যা সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার পক্ষে জেলা প্রশাসক খুলনার নামে ১/১ খাস খতিয়ানের জমির রেকর্ডীয় মালিক। এদিকে শর্ত সাপেক্ষে বন্দোবস্ত মুলে নেয়া ওই খাল দিয়ে সমগ্র বিলের পানি নিঃষ্কাশন হয়ে আসছিল।

কিন্তু ধীরেন্দ্র নাথের মৃত্যুর পর তার ছেলে দিলীপ কুমার মিস্ত্রি মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে উক্ত সরকারি খাসখালটি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তি সুব্রত ফৌজদার নামের এক ব্যাক্তির নিকটে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে চুক্তপত্র সম্পাদন করে লীজ দিয়েছেন। এতে সুব্রত ফৌজদার পানি নিঃস্কাসনের পথ বন্ধ করে ভেড়ি বাঁধ দিয়ে লীজ ঘের তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষক সিদ্ধার্থ শংকর রায়, মহিতোষ রায়, অশ্বিনী মল্লিক, সাবেক ইউপি সদস্য পুলকেশ মন্ডল, ঠাকুর দাস, শ্যামা প্রসাদ রায়, কুন্তল মন্ডল, প্রমথ গাইন, প্রভাষ মন্ডল, সুকৃতি গাইন, জীবন মন্ডল, দীবশিষ গাইন, বিপুল মন্ডল, সঞ্জয় গাইন, সুনিল গাইন সহ এলাকার আরো অনেকে জলাবদ্ধতা নিরসন ও জনস্বার্থে উক্ত খাসখালটি উন্মুক্ত রাখতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সু দৃষ্টি কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে দিলীপ মিস্ত্রি বলেন, জনস্বার্থে এবং বিলের পানি নিঃষ্কাসনের লক্ষে খাসখালটি উন্মুক্ত রাখতে তার সন্মতি রয়েছে। শোভনা ইউপি চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত বৈদ্য বলেন, বিলের পানি নিঃষ্কাসনের পথ বন্ধ করে ব্যক্তি স্বার্থে খাসখালে বাঁধ দেয়া চরম অন্যায় কাজ। এমন ঘটনা প্রতিহত করতে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাসখালটি উন্মুক্ত রাখা অতি জরুরি।

তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আসিফ রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পানি নিঃস্কাশন এবং জনস্বার্থে সরকারি খাসখাল উন্মুক্ত রাখতে দ্রুত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

Comment using Facebook