যশোর-খুলনায় স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান, ২৫ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সিলগালা

0
37

নওয়াপাড়া ডেস্ক

যশোর ও খুলনা জেলার তিন উপজেলায় স্বাস্থ্যবিভাগের কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে প্রায় ২৫টি ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার সিলগালা করে বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।

যশোরের চৌগাছায় স্বাস্থ্য বিভাগের দুই দিনের অভিযানে পাঁচ ক্লিনিক ও এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার ও রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরুফা সুলতানা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহারের নেতৃত্বে অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই জরিমানা আদায় করা হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পৌর শহরের নোভা এইড হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মধুমতি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মায়ের দোয়া প্রাইভেট হাসপাতাল ও কপোতাক্ষী ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রত্যেকটির মালিকের কাছ থেকে দশ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

এসময় এ সকল ক্লিনিকের মালিকদের রেজিস্ট্রেশন মেয়াদোত্তীর্ণ হাওয়ায় আগামী এক মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন নবায়ন ও প্রাথমিক সতর্ক করে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরআগে রবিবার বিকাল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে শহরের পল্লবী ক্লিনিকের মালিকের নিকট থেকে ১০ হাজার টাকা এবং ডক্টরস প্যাথলজির মালিকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানার নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ বিষয়ে আদালত পরিচালনাকারী চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, নানা অনিয়ম পাওয়ায় তাদের জরিমানা করে সতর্ক করা হয়েছে। একই সাথে তাদের রেজিষ্ট্রেশন নবায়ন না থাকায় নবায়ন করার জন্য একমাসের সময় দেয়া হয়েছে। সময়ের মধ্যে নবায়ন না করলে এগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। এদিকে যশোরের ঝিকরগাছার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৮টি অনিবন্ধিত প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সোমবার (৩০ মে) বেলা ১২টা থেকে শহরের বোটঘাট রোড, পোস্ট অফিস এলাকা, মোবারকপুর, ছুটিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আয়েশা মেমোরিয়াল মেডিকেল সেন্টার, মোহাম্মদ আলী ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফেমাস মেডিকেল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মোহাম্মদ আলী ক্লিনিক এন্ড ডায়াবেটিস সেন্টার, সীমান্ত ডায়াগনস্টিক এন্ড ডায়াবেটিস কেয়ার, ছুটিপুর প্রাইভেট ক্লিনিক, সালেহা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও আনিকা ক্লিনিক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রশিদুল আলমের নেতৃত্বে অভিযানে উপস্থিত ছিলেন থানার ওসি সুমন ভক্ত, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার এস কে রাজিবুল ইসলাম, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ফারুক হোসেন প্রমুখ। রশিদুল আলম বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী ঝিকরগাছায় অভিযান চালিয়ে ৮টি অনিবন্ধিত ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করে সিলগালা করা হয়েছে। নিবন্ধন পেলে এসব প্রতিষ্ঠান আবার চালু করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে- খুলনার বটিয়াঘাটা থেকে আল-আমীন গোলদার জানান, সরকারের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডঃ আহমদ কবিরের নির্দেশনা মোতাবেক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকের ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্সসহ বৈধ কাগজপত্র সরোজমিনে পরিদর্শন করেন বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মিজানুর রহমান।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ি ১০ সয্যা বিশিষ্ট ক্লিনিক পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি ক্লিনিকের জন্য ৩ জন এমবিবিএস ডাক্তার, ৬ জন ডিপ্লোমা নার্স, ৬ জন আয়া ও ৩ জন সুইপার ও ৩ জন গার্ড থাকতে হবে। কিন্তু এই সকল জনবল না থাকায় গত সোমবার ৩০ মে সকাল ১০ টায় বটয়াঘাটায় মোট ৫টি বেসরকারী ক্লিনিকের মধ্যে ৪টি ক্লিনিক সিলগালা করা হয়। ক্লিনিক গুলো হলো বটিয়াঘাটা বাসষ্টান্ডের সোনালী ক্লিনিক, গল্লামারি ছফুরা ক্লিনিক, জিরো পয়েন্টে সুন্দরবন নার্সিং হোম এ্যান্ড ক্লিনিক ও খারাবাদ নোভা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব ক্লিনিকে থাকা রোগীদের বিকেল ৬ টার মধ্যে অণ্য রেজিষ্ট্রিকৃত বেসরকারী ক্লিনিক বা সরকারী হাসপাতালে সরিয়ে নেয়ার জন্য সময় দেয়া হয়। অন্যদিকে জিরো পয়েন্ট এম আর ক্লিনিক, জিরো পয়েন্ট সুন্দরবন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বটিয়াঘাটার সূর্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বটিয়াঘাটা করুণা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বটিয়াঘাটা সোনালী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এম আর ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খারাবাদ ডায়াগনস্টিক সেন্টার কে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র প্রস্তুত করে উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে দাখিল করার নির্দেশ দেন। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে প্রাথমিক ভাবে সতর্ক করেন। অভিযান চলাকালীন সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আরএমও ডাঃ অভিজিৎ মল্লিক, সেনিটারি ইন্সপেক্টর মাসুম রেজা, বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম শাহীন, হিরামন মন্ডল সাগর, সহ-সভাপতি অমলেন্দু বিশ্বাস, সহ সম্পাদক মোঃ সোহরাব হোসেন মুন্সী, সাংবাদিক ইয়াছিন রেজা সহ অন্যন্য সাংবাদিকবৃন্দ এবং বটিয়াঘাটা, লবনচরা ও হরিনটানা থানার পুলিশ সদস্য।

Comment using Facebook