নড়াইলে কাজের বুয়াকে হত্যা অভিযোগ!

0
19

নড়াইল সংবাদদাতা

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার রাজাপুর গ্রামে ধর্ষনের পর আফরোজা বেগম (৩৫) নামে এক কাজের বুয়া কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। লোহাগড়া উপজেলার কামারগ্রাম-রাজাপুর খাল খনন করতে এসে ভেকু ব্যবসায়ী ও চালকরা কাজের বুয়াকে ধর্ষণ পূর্বক হত্যা করে পালিয়ে যায় বলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের অভিযোগ।

ফরিদপুরের বোয়ালমারি থানার বঙ্গেস্বরদি গ্রামের মনির হোসেন শনিবার (১৪ মে ) সাংবাদিকদের জানান তার বিধবা বোন আফরোজা রাজাপুর গ্রামে আক্কাস মোল্যার বাড়ির ভাড়াটিয়া ভেকু ব্যবসায়ী ও ভেকুর চালকদের রান্নার কাজ করতেন। গত ৬ এপ্রিল তাকে জানানো হয় তার বোন আফরোজা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ওই দিন পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়।

এ সময় পুলিশ স্থানীয় সাক্ষী রাজাপুর গ্রামের নুর উদ্দিন এবং আড়পাড়া গ্রামের নাজিম উদ্দিনের উপস্থিতিতে মৃত আফরোজার ব্যবহৃত পেটকোট ও ব্লাউজ উদ্ধার করে। গত ১০ এপ্রিল নড়াইল সদর হাসপাতাল কতর্ৃৃপক্ষ স্মারক নং ২৩৭/২২ এ প্লাস্টিকের ২টি কৌটা সহ পলিথিনের ব্যাগে ভিসেরা এবং পেটকোট ও ব্লাউজ ঢাকা মহাখালিতে ময়না তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠায়। এদিকে আফরোজার লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ভেকু ব্যবসায়ী এবং চালকরা। নিহত আফরোজার ভাই মনির হোসেনের অভিযোগ, ভেকু ব্যবসায়ী সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ইটগাছা পূর্বপাড়ার দ্বীন আলী গাজীর ছেলে বিল্লাল গাজী (২৮), ভেকু চালক খুলনার কয়রা থানা শহরের কামরুল ফকিরের ছেলে আছাদুল ফকির (৩৫) ও সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার আনুলিয়া গ্রামের নুর মোহাম্মাদের ছেলে নুরুজ্জামান (৩৮) এবং তাদের অপর ২ সহযোগি মিলে গণধর্ষন করে শ্বাসরোধে হত্যার পর আফরোজার লাশ ঘরের মধ্যে ঝুলিয়ে রাখে। এরপর ধর্ষন ও হত্যা ঘটনা চাপা দিতে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। এ ঘটনায় কোন কিছু না করার জন্য তারা মনির হোসেনকে একদিকে কিছু টাকা দেয়ার প্রলোভন দেয় অপরদিকে হুমকি দেয়। কান্না জড়িত কণ্ঠে মনির হোসেন বলেন, ফুফাতো ভাইয়ের মাধ্যমে চলতি বছরের ২০মার্চ তার পূর্ব পরিচিত ভেকু ব্যবসায়ী ও চালকদের রান্নার কাজে দিয়েছিলেন বিধবা বোনকে। গত ৫এপ্রিল রাতে ধর্ষনের পর নরপিশাচরা তাকে নির্মম নির্যাতন করে হত্যার পর ঘরের ডাবা’র সাথে ঝুলিয়ে রাখে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ ছিল। ভেকু ব্যবসায়ী ও চালকদের বাড়ির নির্দিষ্ট ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা এ ঘটনার পর থেকে বেশির ভাগ সময় গা ঢাকা দিয়ে থাকে। বাড়িতে খুব কম যায়। লোহাগড়া থানার ওসি শেখ আবু হেনা মিলন বলেন, ময়না তদন্ত ও ফরেনসিক রেজাল্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comment using Facebook