কয়রায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় নেই পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেল্টার

0
155

কয়রা সংবাদদাতা

খুলনার কয়রা উপজেলায় চাহিদার তুলনায় সাইক্লোন সেল্টারের সংখ্যা কম। দুর্যোগের সময় ৩ লক্ষাধিক মানুষের জন্য সাইক্লোন সেল্টার রয়েছে মাত্র ১১৭টি। এর ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উপজেলার অনেক মানুষকে একই রুমে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। সেখানে পর্যাপ্ত থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। নেই নারী-পুরুষের জন্য আলাদা টয়লেট ব্যবস্থাও। এ কারণে দুর্যোগের সময় উপজেলাবাসীকে চরম সংকটে পড়তে হয়।

এলাকাবাসী জানায়, সুন্দরবনের পাশ ঘেসে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় উপজেলা কয়রা সাতটি ইউনিয়নের ১৩১টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। কপোতাক্ষ, শাকবাড়িয়া, শিবসা ও আড়পাঙ্গাসীয়া নদী বেষ্টিত উপজেলাবাসীকে আতংকগ্রস্থ করে রেখেছে সারা বছর। অমাবশ্যা ও পুর্ণিমার সময় জলোচ্ছ্বাসে বেঁড়িবাধ ভেঙে যে কোন গ্রাম প্লাবিত হয়। এ সময় মানুষ নিরাপদ আশ্রয়স্থল খোঁজে। সে সময় একমাত্র আশ্রয় স্থল হলো সাইক্লোন সেল্টার। প্রলয়নকারী ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, আম্পান ও ইয়াসের আতংক কেটে গেলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আতংক কাটেনি উপকূলীয় জনপদ কয়রাবাসীর। মানুষের জান মালের নিরাপত্তা ও আশ্রায়ের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ আশ্রয় কেন্দ্র নেই।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে, দুর্যোগের সময় ৩ লক্ষাধীক মানুষের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে ৯৮ টি। ফায়েল খায়ের ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাইকোন সেল্টার রয়েছে ১৯ টি। ২০০৯ সালে ২৫ মে ঘূণিঝড় আইলায় উপজেলার ৪১ জন মানুষের মৃত্যু হয়। তবে বেসরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি। ২০২০ সালের ২০ মে সুপার সাইক্লোন আম্পানে কয়রার ৪টি ইউনিয়নের ৫২টি গ্রাম সম্পূর্ণ এবং আরও ২টি ইউনিয়নের ২৪টি গ্রাম আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২১টি স্থানে বাঁধ ভেঙে যায়। ৫১ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে ১ লাখ ৮২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এবং ২০২১ সালের ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ৫০ টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১০ টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় শাকবাড়ীয়া ও কপোতাক্ষ নদীর প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। বিধস্থ হয় এক হাজার ২৫০ টি ঘর। পানিতে তলিয়ে যায় দুই হাজার পাঁচ’শ চিংড়ী ঘের। যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এবং ১৫ হেক্টর জমির কৃষি ফসল নষ্ট হয়। দক্ষিণ বেদকাশীর জোড়শিং গ্রামের দূর্গাপদ মিস্ত্রি (৫৫) বলেন, প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়।

প্রতিটি মুহুত্য নদী ভাঙ্গন, জলোচ্ছাস আর ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংবাদ বয়ে আনে। তারপরেও সমস্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে বসবাস করছি। উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাছিমা আলম বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আমাদী ইউনিয়ন ছাড়া বাকী ৬টি ইউনিয়ন অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ, বিশেষ করে কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো। সে জন্য ৬ টি ইউনিয়নে আরো সাইকোন সেল্টার নির্মাণের দরকার। উপেজলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাগর হোসেন সৈকত বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সার্বিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে প্লাবিত হওয়ার আতংক রয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলের কয়রা

র প্রায় ৩ লাখ মানুষ। দুর্যোগের সময় ওই সকল মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য আরও সাইক্লোন সেল্টার প্রয়োজন। উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এসএম শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘূণিঝড়, জলোচ্ছাস বা যে কোন দুর্যোগের সময় মানুষের জান মালের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ জরুরি। যা রয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উপকূলবাসীদের আশ্রয়ের জন্য সরকারের তত্ববধায়নে আরও ৩০০ টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়ন কেন্দ্রের জন্য প্রস্তাব পাঠনো হয়েছে।

Comment using Facebook