কেশবপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আ‘লীগের দু‘পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ৫

0
28

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা

কেশবপুর উপজেলার ২ নং সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চিংড়া বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু‘পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি, ছাত্রলীগের অফিস, দোকানঘর, মটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনায় গত ৩ দিন ধরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছে। বাজারের পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় গত শনিবার অধিকাংশ দোকানঘর বন্ধ ছিল। এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই অর্ধশত ব্যক্তিকে আসামী করে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।

এলাকাবাসি ও পুলিশ জানায়, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত ও শাহাদাৎ হোসেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিস্কার হন। নির্বাচন চলাকালিন সময়ে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলামকে আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। নির্বাচনে মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। এরপর থেকে চিংড়া বাজারে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত গ্রুপ ও সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ও রফিকুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ এপ্রিল রাতে শাহাদাৎ হোসেন ও রফিকুল ইসলাম গ্রুপের নেতা-কর্মীরা চিংড়া বাজারের ছাত্রলীগের অফিসে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ ভাঙচুর করে। পরে মুক্ত গ্রুপের লোকজন সংঘটিত হয়ে ওই বাজারের যুবলীগ নেতা হামিদুল ইসলামের দোকানঘরসহ ৪টি মটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ওই রাতেই কেশবপুর থানা পুলিশ ও চিংড়া ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

মুহূর্তের মধ্যে বাজারের সমস্ত দোকানপাঠ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে ওই বাজারে দু‘গ্রুপের লোকজন দলবেধে টহল দিচ্ছে। সরেজমিনে শনিবার ওই বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, দু‘পক্ষের টানটান উত্তেজনার কারণে অধিকাংশ দোকানঘর বন্ধ রয়েছে।বাজারে পুলিশি টহল জোরদার ছিল।এ ব্যাপারে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক কাজী আজাহারুল ইসলাম মানিক বলেন,গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শাহাদাৎ হোসেন পরাজিত হওয়ার পর থেকে তার অনুসারি আহবায়ক রফিকুল ইসলাম ও নৌকা প্রতিকের প্রার্থী অলিয়ার রহমানের লোকজন বিভিন্ন সময়ে উস্কানিমূলক কথা বলে আসছে। ২১ এপ্রিল রাতে কসাই কামরুল, সুজন গাজী, মজনু, আবু সাইদের নের্তৃত্বে ২০/২৫ জন যুবক চিংড়া বাজারের ছাত্রলীগের অফিসে আকস্মিভাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ নেত্রীর ছবি ভাঙচুর করে চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত ও আমার নাম ধরে খুঁজতে থাকে। নেত্রীর ছবি ভাঙচুরের ঘটনা রটে গেলে বাজারের জনগণ সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রতিপক্ষের হামলায় আহত চিংড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে ১৮ জন আসামী করে থানায় অভিযোগ করেছে।প্রতিপক্ষের আওয়ামীলীগ নেতা আজিবার রহমান জানান, চিংড়া গ্রামের সাবেক মেম্বার রশিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, রশিদুল ইসলামের নের্তৃত্বে পরিকল্পিতিভাবে যুবলীগ নেতা হামিদুল, পলাশ কবিরের ফিডের দোকানসহ ৪টি মটর সাইকেল ভাঙচুর করেছে।

এ ঘটনায় ২২ এপ্রিল হামিদুল ইসলাম বাদি হয়ে ২৮ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেছে। তাদের হামলায় হামিদুল, মফিদুল আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এব্যাপারে কেশবপুর থানার এসআই গোরাচাঁদ দাস বলেন, চিংড়া বাজার এখন শান্ত। কোন পক্ষের লোকজনকে বাজারে থাকতে দেয়া হচ্ছে না। বাজারে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

Comment using Facebook