যশোরের নাসির-রমজান সিন্ডিকেটের সোনার বার লুট নাকি আত্মসাৎ!

0
54

সাকিরুল কবির রিটন, যশোর

আর্ন্তজাতিক সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেটের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ডন পুটখালীর সোনা মাদক ও অস্ত্র পাচারকারী নাসির-রমজান সিন্ডিকেটের ১১৫ পিস সোনার বার সত্যিই কি লুট হয়েছে? নাকি নিজেরাই আখের গোছাতে লুটের নাটক সাজিয়েছে?

এই প্রশ্ন এখন সীমান্তবাসীর মুখে মুখে ঘুরছে। সূত্র জানায়, ভারতের বস্ গৌতম এবং অপুর ১২ গাড়ি অর্থাৎ ১২০ পিস সোনার বার পাচারের দায়িত্ব পড়ে নাসির-রমজান ও দেব সিন্ডিকেটের উপর। পুরানো ঢাকার রাম এবং বায়তুল মোকাররম এলাকার আওলাদ, আরিফ ও ইমরাণের কাছ থেকে এই স্বর্ণের চালান ক্রয় করেন ভারতের বস্ গৌতম এবং অপু। ভারতে পাচারের সময় সোনার চালানটি নাসির-রমজান-দেব-বাদশা গং আত্মসাত করতেই যশোর ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে সোনা লুটের নাটক সাজায় বলে অভিযোগ উঠেছে। যা প্রমাণ করতে তারা ক্যারিয়ারের মোটর সাইকেলটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে আসে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্য সূত্রগুলো বলছে, আত্মসাত নয় সত্যিকার অর্থেই ১২০ পিসের মধ্যে ১১৫ পিস সোনা কতিপয় দুর্বৃত্ত ক্যারিয়ারের কাছ থেকে মারপিট করে কেড়ে নিয়েছে। ‘রক্ষক’দের সহযোগিতায় এই চক্রটি সোনার চালানটি ‘ভক্ষণ’ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সীমান্তের সূত্রগুলো বলছে, সোনা লুটের ঘটনা প্রমাণ করতেই কথিত সোনা লুটের কিছুক্ষণ পরেই ২৫/২৬টি মোটরসাইকেলে সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেট, মাদক ও অস্ত্র পাচারকারী রমজান ও গোল্ড-অস্ত্র ও ফেন্সি স¤্রাট রমজানের সিপাহশালার মহব্বতসহ প্রায় ৫০ জন অপরিচিত ব্যক্তি ফ্লিমি ইস্টাইলে এসে যশোর-ল-১১-৬৮০৬ নাম্বারের মোটরসাইকেলটি তাদের দাবি করে নিয়ে যেতে চাই। যাতে গ্রাম পুলিশ সাইদুল ইসলাম ও গ্রামবাসী বাধা দেয়। শুরু হয় উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় তাদেরকে প্রতিরোধ করতে মসজিদের মাইকে মাইকিং করে মহল্লার নারী-পুরুষকে একত্রিত করা হয়।

এসময় বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কামরুজ্জামান সংঙ্গীয় র্ফোস নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় গোল্ড-অস্ত্র ও ফেন্সি স¤্রাট রমজান এবং তাদের সিপাহশালার মহব্বতসহ ১২জনকে আটক ও ১৩টি মোটরসাইকেল জব্দ করে বলে জানা যায়। অন্যরা সবাই পালিয়ে যায়। তবে, সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেট, মাদক ও অস্ত্র পাচারকারী রমজানের কথা চাউর হলেও পরে তাকে আর পুলিশ হেফাজতে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে নাভারন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান, ঝিকরগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ডা. কাজী নাজিব হাসান, ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন ভক্ত, অফিসার ইনচার্জ (ডিবি) রুপন কুমার সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রহস্যজনক পরিত্যক্তসহ জব্দকৃত মোটরসাইকেল গুলোর প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সহকারী পুলিশ সুপার (নাভারণ সার্কেল) জুয়েল ইমরান জানিয়েছিনে। এছাড়া, ১৭ এপ্রিল রবিবার সকালে পুলিশ যাদের আটক দেখিয়েছে তারা সবাই যে সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। এ বিষয়টি পুলিশের অজানা থাকার কথা নয়। আটককৃতরা হলো-সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার পুটখালী গ্রামের মোজাম্মেল হক সরদারের ছেলে গোল্ড-অস্ত্র ও ফেন্সি স¤্রাট রমজানের সিপাহশালার মহব্বত আলী (৩৬), ইমাদ মোড়লের ছেলে যুবলীগ নেতা বাবু হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি নাসির উদ্দীন (৩৯), হাশেম আলীর ছেলে ফেন্সী ব্যবসায়ী অসীম উদ্দীন (২৭), আব্দুল কাদেরের ছেলে মনিরুজ্জামান (প্রকৃত নাম রুহুল আমীন) (৩০), আবুল খায়েরের ছেলে খোরশেদ (প্রকৃত নাম মোরশেদ) আলী (৩২), দেলবার মোড়লের ছেলে নুর হোসেন (৪৫), ইদ্রিস আলীর ছেলে মিলন কবীর (২৮), বালুন্ডা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে বোমাবাজ আশিকুর রহমান (৩২), বারোপোতা গ্রামের মোহর আলীর ছেলে আব্বাস আলী (৩০), তৈয়বুর রহমানের ছেলে আলাউদ্দীন (২৪) ও বাগআঁচড়া গ্রামের রেজাউল মোড়লের ছেলে সজীব হোসেন (২৫)। ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে ক্যারিয়ারের রেখে যাওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে গিয়ে ১৩ মোটর সাইকেলসহ ১১ ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে পরদিন অর্থাৎ ১৮ এপ্রিল কোটে সোপর্দ করে। অবিশ^াস্য ভাবে তাদের জামিনের ঘটনাটি এলাকায় চ্যাঞ্চল্য সৃষ্টিসহ ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। ঘটনার দিন ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন ভক্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, মারামারির একটা মামলা হয়েছে। অদৃশ্য কারণে থানা পুলিশের এই নমনীয়তায় পুটখালীর সোনা চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচারকারী নাসির-রমজান-দেব সিন্ডিকেটের সক্রিয় একডজন সদস্য পার পেয়ে গেল বলেও দাবি এলাকাবাসির।

Comment using Facebook