বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ডাক্তার সংকটে বাড়ছে রোগীদের দুর্ভোগ

0
91

শেখ আনিছুর রহমান, বাগেরহাট

বাগেরহাট সদর হাসপাতালে তীব্র চিকিৎসক সঙ্কটে রোগীদের দুর্ভোগ ক্রমশ বাড়ছে। ১৮ লক্ষাধিক লোক অধ্যুষিত এ জেলার প্রধান হাসপাতালটি বছরের পর বছর ১শ’ শয্যা চলছে ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে। তারপরও সার্জারি, গাইনি, চক্ষুসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক চিকিৎসকের পদ শূন্য পড়ে আছে।

এমনকি প্যাথলজিস্ট, টেকনিশিয়ান পদের রয়েছে সঙ্কট। কিন্তু রুগীর চাপ রয়েছে দ্বিগুণের বেশি।

ফলে চিকিৎসকসহ বহুমুখী সঙ্কটে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসকের পদ শূণ্য থাকায় খুলনাসহ বড় শহরে চিকিৎসার জন্য যেতে হয় রোগীদের। আর দরিদ্র রোগীরা বাধ্য হয়ে গুরুতর সমস্যা নিয়েও পড়ে থাকেন এই হাসপাতালে। এর সাথে শয্যা সঙ্কট ও অবকাঠামো নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে রোগী ও স্বজনদের।

চিকিৎসক সঙ্কট মেটাতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার পত্র প্রেরণ করা হয়েছে বলে সিভিল সার্জন জালাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট জেলার ১৮ লক্ষাধিক মানুষের প্রধান চিকিৎসালয় ‘বাগেরহাট সদর হাসপাতাল’। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবন ও বঙ্গোপ সাগরের জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীরাও চিকিৎসা নিতে আসেন এই হাসপাতালে। ১৯৭০ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে বাগেরহাট শহরের মুন্সিগঞ্জ এলাকায় এই হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। ২৭ বছর পরে ১৯৯৭ সালে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয় এই হাসপাতালকে।

একশ’ শয্যায় উন্নীত হলেও ২৪ বছর ধরে ৫০ শয্যার জনবল নিয়ে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। বর্তমানে ৫০ শয্যার জনবলও অর্ধেকে নেমে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালে কনসালট্যান্টের ১২টি পদের মধ্যে ৭ টি এবং মেডিক্যাল অফিসারের ১২ টি পদের ১০টি পদ শূন্য রয়েছে। কনসালট্যান্টের শূন্য পদের মধ্যে রয়েছে সিনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জারি, গাইনি, চক্ষু, এ্যানেস্থেসিয়া, জুনিয়র কনসালট্যান্ট অর্থোট্রমেটিক, কার্ডিওলজি, রেডিওলজি। মেডিক্যাল অফিসারদের মধ্যে ডেন্টাল সার্জন, ইউনানী মেডিক্যাল অফিসার, মেডিক্যাল অফিসার, প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজিস্টের পদ শূন্য রয়েছে। রামপাল উপজেলার সদর ইউপির প্রাক্তন চেয়ারম্যান শেখ বজলুর রহমান ও মল্লিকেরবের ইউপির সাবেক সদস্য মোসাঃ লাকি আক্তার বলেন, বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ গরিব মানুষ সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন।

কিন্তু এখানে আসলে এই ডাক্তার নেই, ওই নেই, তা নেই, শুধু নেই আর নেই। কাকলী রানী, মুন্নি, সুমনা আক্তার, অনোক পালসহ স্থানীয় কয়েকজন বলেন, ডাক্তার না থাকার কারণে প্রতিদিনই অনেক রোগীকে এই হাসপাতাল থেকে রেফার্ড করা হয়। এটা এখন ‘রেফার্ড’ হাসপাতাল হয়েছে। ফলে অনাকাক্ষিত মৃত্যু ও ভোগান্তি বাড়ছে সেবা গ্রহীতাদের। বাগেরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার শেখ আদদান হোসেন বলেন, বাগেরহাট সদর হাসপাতালে অনেকদিন ধরেই চিকিৎসক সঙ্কট রয়েছে। অথচ রুগীর চাপ বেশি।

ফলে ঠিকমতো সকলকে সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। এরপরও আমাদের যে জনবল রয়েছে, তাই দিয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সঙ্কটের বিষয়টি আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। ৪২ তম বিএসএসের নিয়োগ সম্পন্ন হয়ে গেলে আশা করি এই সঙ্কট দ্রুত সমাধান হবে।

Comment using Facebook