মোংলায় ইউপি মেম্বরের টর্চার সেলে আটকে রেখে দুই ভাইকে নির্যাতনের অভিযোগ

0
25

এইচএম, দুলাল, মোংলা

মোংলায় ইউপি মেম্বরের টর্চার সেলে আটকে রেখে আপন দুই ভাইকে অমানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে নির্যাতিতদের উদ্ধারে করতে গেলে নারীসহ আরও তিনজন পুনরায় হামলার শিকার হয়েছেন।

গুরুতর আহতদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার কানাইনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, শালিস বিচারের নামে শনিবার সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের বাংলাদেশ হোটেলের সামনে থেকে বিনোদ সরকার (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক তুলে নেয় চাঁদপাই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর সুলতান হাওলাদারের ছেলে জাকির ও তার দলবল। সেখান থেকে তাকে শহরের সিঙ্গাপুর মার্কেট সংলগ্ন একটি কক্ষে আটকে রেখে বেদড়ক মারধরসহ শারিরীক নির্যাতন চালানো হয়। পরে হাত ও পা বেঁধে টেনে হেচড়ে তাকে নেয়া হয় কানাইনগর এলাকায়।

কানাইনগর গুচ্ছগ্রাম এলাকায় অপর একটি ঘরে বন্ধী করে রাখা হয় তাকে। সেখানেও মেম্বর পুত্র ও তার লাঠিয়াল বাহিনী দ্বিতীয় দফায় নির্যাতন ও মারধর করা হয়। এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিনোদের ছোট ভাই বিপ্লব সরকার (৩৮)। এ সময় তাকেও বন্ধী করা হয় মেম্বর পুত্রের টর্চার সেলে। সেখানে দুই ভাইকে আটকে রেখে কয়েক দফায় মারধর ও নির্যাতন চালানো হয়।

এক পর্যায়ে দুই ভাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওই নির্যাতনের দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে স্বামী ও দেবরকে রক্ষায় স্ত্রী বিপাশা এগিয়ে গেলে তিনিও হয়রানীসহ নির্যাতনের শিকার হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দুপুর ২ টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে আপন দুই ভাই বিনোদ ও বিপ্লব সরকারের অবস্থা আশংকাজনক। এ ঘটনায় বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিত বিনোদের বড় ভাই কুমোদ সরকার।

এ বিষয় মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ খবর নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ইউপি মেম্বর সুলতান ও তার পুত্র জাকিরের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Comment using Facebook