বার্সাকে উড়িয়ে সেমি-ফাইনালে আইনট্রাখট

0
25

ক্রীড়া ডেস্ক

শুরুতেই প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি উপহার দেওয়ার ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারল না বার্সেলোনা। চমৎকার পারফরম্যান্সে একে একে স্প্যানিশ দলটির জালে তিনবার বল পাঠাল আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট।

শেষ দিকে দুটি গোল শোধ করলেও লাভ হলো না কাতালানদের। স্মরণীয় এক জয়ে ইউরোপা লিগের সেমি-ফাইনালে উঠল জার্মান দলটি। কোয়ার্টার-ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বৃহস্পতিবার রাতে বার্সেলোনাকে তাদের মাঠেই ৩-২ গোলে হারাল আইনট্রাখট। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলের অগ্রগামিতায় তারা পা রাখল পরের ধাপে।

চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার একমাত্র শিরোপা জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা টিকে ছিল ইউরোপের দ্বিতীয় সেরা এই ক্লাব প্রতিযোগিতায়। সেটিও আগেভাগে শেষ হয়ে গেল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৫ ম্যাচ পর পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেল শাভি এরনান্দেসের দল। কাম্প নউয়ে বল দখলে যথারীতি বার্সেলোনার আধিপত্য থাকলেও আক্রমণে এগিয়ে আইনট্রাখট। মাত্র ২৫ শতাংশ পজেশন রাখতে পারা দলটি গোলের জন্য ১৫টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখে।

বিপরীতে, স্বাগতিকদের ১০ শটের চারটি লক্ষ্যে ছিল। প্রথম লেগে পিছিয়ে পড়ে ১-১ ড্র করা বার্সেলোনার এবারের শুরুটা হয় ভীষণ বাজে। তৃতীয় মিনিটে ডি-বক্সে ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া আইনট্রাখটের ইয়াসপের লিন্ডস্ট্রোমকে পেছন থেকে টেনে ধরে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। দলকে এগিয়ে নিতে কোনো ভুল করেননি সার্বিয়ান মিডফিল্ডার ফিলিপ কোস্তিচ। এই নিয়ে নিজেদের সবশেষ ৪৮ মিনিটের খেলায় প্রতিপক্ষকে ৪টি পেনাল্টি উপহার দিল বার্সেলোনা! গত রোববার লা লিগায় লেভান্তের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জেতা ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দিয়েছিল ৩টি। নবম মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ পান পিয়েরে-এমেরিক অবামেয়াং। ডান দিক থেকে উসমান দেম্বেলের ক্রস দূরের পোষ্টে পেয়ে গ্যাবনের ফরোয়ার্ডের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। অষ্টাদশ মিনিটে জর্দি আলবার ফ্রি-কিক প্রাথমিকভাবে ক্লিয়ার করে সফরকারী ডিফেন্ডাররা। বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ডিফেন্ডার রোনালদ আরাহোর জোরাল ভলি ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান গোলরক্ষক কেভিন ট্রাপ। ৩৪তম মিনিটে বার্সেলোনার তিন খেলোয়াড়ের বাধা এড়িয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জার্মান উইঙ্গার আন্সগারের নেওয়া শট ঠেকান মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন।

পরক্ষণেই রাফায়েল বোরের দুর্দান্ত গোলে স্কোরলাইন হয় ২-০। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন কলম্বিয়ার এই ফরোয়ার্ড। দুই লেগ মিলিয়ে তখন ৩-১ গোলে এগিয়ে আইনট্রাখট। বার্সেলোনার সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিরতির আগে তাদের বিপদ আরও বাড়তে পারত। আলগা বল পেয়ে আন্সগারের শট উড়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন অবামেয়াং। ডান দিক থেকে দেম্বেলের পাসে দূরের পোস্টে ¯্রফে একটি টোকার দরকার ছিল, কিন্তু বলে পা ছোঁয়াতেই পারেননি সাবেক আর্সেনাল ফরোয়ার্ড। ৫৬তম মিনিটে কাছ থেকে অবামেয়াংয়ের প্রচেষ্টা ঠেকান গোলরক্ষক। একটু পর ওয়ান-অন-ওয়ানে লিন্ডস্ট্রোমের শট ফিরিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি টের স্টেগেন। তার আগে আইনট্রাখটের ডি-বক্সে এক ডিফেন্ডারের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির আবেদন করেছিল বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা। ভিএআরের সাহায্যে আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন রেফারি। তার ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সমস্যা দেখা দেওয়ায় খেলা বন্ধ থাকে কিছুক্ষণ। ৬৭তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে স্কোরলাইন ৩-০ করে বার্সেলোনার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা অনেকটাই শেষ করে দেন কোস্তিচ। সতীর্থের পাস ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে পাঠান তিনি। ৮৪তম মিনিটে ডি-বক্সে ফ্রেংকি ডি ইয়ংয়ের পাসে সের্হিও বুসকেতস জালে বল পাঠালেও ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। ৯ মিনিট যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল ভলিতে ব্যবধান কমান বুসকেতস।

বার্সেলোনা সমর্থকদের মনে জেগে ওঠে ক্ষণিক আশা। একেবারে শেষ মুহূর্তে লুক ডি ইয়ং ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। আইনট্রাখটের ফরাসি ডিফেন্ডার এভান দেখেন লাল কার্ড। স্পট কিকে মেমফিস ডিপাইয়ের গোলে পরাজয়ের ব্যবধানই কমে শুধু। জয়ের উল্লাসে ফেটে পড়ে সফরকারীরা। চলতি মৌসুম শুরুর আগে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের হারানো, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া, কোপা দেল রে থেকেও আগেভাগে বিদায়- সব মিলিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া বার্সেলোনা একটু একটু করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে শাভির হাত ধরে। লা লিগায় উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। সেখানে রিয়াল মাদ্রিদকে টপকে শিরোপা জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ইউরোপা লিগ ঘিরে যে আশাটুকু তাদের সমর্থকরা দেখেছিল, সেটিও শেষ হয়ে গেল। আগামী মৌসুমে বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরার পথ খোলা থাকল এখন একটিই- লা লিগায় থাকতে হবে শীর্ষ চারে।

বুন্ডেসলিগার পয়েন্ট তালিকায় নবম স্থানে থাকা আইনট্রাখট শেষ চারে খেলবে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের বিপক্ষে। কোয়ার্টার-ফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে লিওঁকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ৪৬ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার সেমি-ফাইনালে উঠেছে ইংলিশ দলটি।

Comment using Facebook