ঝিনাইদহে সমবায় সমিতির নামে চড়া সুদের কারবার

0
34

হরিণাকু-ু (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা

ঝিনাইদহের হরিণাকু-ুতে সমবায় সমিতির নামে চড়া সুদের কারবার চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফাঁদে পড়ে ঋণের টাকা সোধ করতে জমিজমা বিক্রি করে সর্বশান্ত হয়ে পড়ছেন ভুক্তভোগীরা। সমবায় আইনের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে বছরের পর বছর এই কার্যক্রম চললেও ঘুমিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

অভিযোগ রয়েছে, দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরেই চালানো হচ্ছে এই চড়া সুদের কারবার। উপজেলার জোড়াদহ বাজারে ‘রূপালী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি’ নামে রমরমা এই সুদের কারবার পরিচালনা করছেন আলতাফ হোসেন নামে সাবেক এক ইউপি সদস্য।

ইতোমধ্যে তার এই সুদের খপ্পরে পড়ে বাড়িছাড়া হয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। উপজেলা সমবায় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে এই দপ্তর থেকে ওই সমিতির নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। পরে ২০১৩ সালে জেলা সমবায় দপ্তর থেকে সংশোধিত আকারে ফের লাইসেন্স নেয়া হয়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিনিয়োগের মাধ্যমে সমিতির সদস্যদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের শর্তে এই লাইসেন্স দেওয়া হয়। সমবায় আইন ২০১১ এর ২৩-এর খ উপধারা অনুযায়ী, সমিতির নামে আর্থিক লেনদেন নিষিদ্ধ। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো সমবায় সংগঠন ব্যাংকিং ব্যবসা (বীমা ও সুদে টাকা খাটানো) পরিচালনা করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে কারাদন্ড বা জরিমানার বিধানও রয়েছে এই আইনে।

তবে স্থানীয় সমবায় দপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে এসব সমিতি। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা কামরুন্নাহার জানান, সমবায় নীতিমালায় সমিতির মাধ্যমে ঋণ বিতরণ কার্যক্রমের কথা সেভাবে কোথাও বলা না থাকলেও সদস্যরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। পরিচালনা করা যাবে সদস্যদের মধ্যে ঋণের কার্যক্রমও। তবে ওই সমিতির নামে কোনো ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে কিনা সেটি জানা নেই এই কর্মকর্তার। তার দাবি, অডিটের সময় তাদের সামনে এ জাতীয় কোনো কাগজপত্র না আসায় বিষয়টি তাদের অজানা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিবন্ধন নেয়ার পর থেকেই সমিতির আড়ালে করা হচ্ছে সুদের কারবার। ২০-৩০ শতাংশ চড়া সুদে চলছে এই কারবার। প্রথমে গ্রাহকদের বাৎসরিক কিস্তির কথা বলা হলেও তা আদায় করা হচ্ছে দিন আকারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জোড়াদহ বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, চড়া সুদে প্রতিদিন কিস্তি আদায় করা হয়। ৯০দিনের মধ্যে ঋণের পুরো টাকা সোধ করা বাধ্যতামূলক। এই ঋণে বছরে সুদ ৪০শতাংশ। আকুল হোসেন নামে একব্যক্তি জানান, তিন বছর আগে তিনি ওই সমিতি থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সুদে আসলে বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল লাখ টাকায়। না দিতে পেরে তিনি বাড়িছাড়া হয়েছিলেন। পরে জমিজমা বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধ করেন। সম্প্রতি এ বিষয়ে স্থানীয় এক সংবাদকর্মী তথ্যানুসন্ধানে গেলে তাকে লাঞ্চিত করা হয়।

এ ঘটনায় ওই সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডি করেছেন ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেন। তার দাবি, তারা সদস্যদের বাইরে কোনো ঋণের কার্যক্রম করেন না। আর সাংবাদিককে লাঞ্চিত করার ঘটনাও সঠিক না।

এ বিষয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা কামরুন্নাহার বলেন, সমিতির সদস্যদের মধ্যে ঋণ বিতরণের বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও বার্ষিক এজিএমে তাদের অনুমোদন নিতে হবে। এর বাইরে জনসাধরণের মাঝে তারা কোনো ঋণের কার্যক্রম চালাতে পারবে না। এসব অভিযোগের বিষয়ে লিখিত পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comment using Facebook