চিতলমারীতে স্লুইস গেট খুলে দেওয়ায় ধান ক্ষেত-ঘের প্লাবিত

0
62

বাগেরহাট সংবাদদাতা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে মাছ ধরার সুবিধার্থে সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাবতলা স্লুইস গেট খুলে দিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ফলে পানির তীব্র স্রোতে উপজেলার খড়িয়া শ্রীরাম বিলের নিলয় কুমার দে নামে এক চাষির ২৫ বিঘা মাছের ঘের ও বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এক চাষির। এছাড়া চিত্রা নদীর পাড়ে পাচকুলিয়া, হরিণনালা, আমতলা, খিলিগাতি, ডুমুরিয়া, বাঁশতলাসহ আরও অনেক স্লুইস গেট নিয়ন্ত্রণ করে প্রভাবশালীরা। ব্যক্তি স্বার্থের জন্য তারা খুশিমত গেট খুলে আবার বন্ধ করেন। ফলে স্থানীয় চাষি ও কৃষকরা মৎস্য ঘের তলিয়ে যাওয়া ও বোরো ধানের ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন। এ অবস্থায় দ্রুত গেটগুলো নিয়ন্ত্রণ করে পানির ব্যবস্থাপনা সঠিক রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে জনবল নিয়োগের মাধ্যমে শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান করা হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষি নিলয় কুমার দে বলেন, ২৫ বিঘা জমিতে ধান ও মাছ চাষ করেছি। পনের থেকে বিশ দিনের মধ্যে ধান কাটার কথা ছিল। মাছও বেশ বড় হয়েছে। হঠাৎ গাবতলা গেটটি খুলে দেওয়ায় পানির স্রোতে ঘেরের পাড় ভেঙে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ ও ধানের ক্ষতি হয়েছে। কিভাবে এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠব আর কিভাবেই বা সংসার চালাবো। পার্শ্ববর্তী আরেক কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গেট খুলে দেওয়ায় পানির চাপে আমারও ঘেরের ক্ষতি হয়েছে। আমার মত অনেক কৃষক-ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কিন্তু আমাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই। আর ভয়ে আমাদের প্রতিবাদেরও সাহস নেই। সরকার যদি গেটগুলো যথাযথ ব্যবস্থাপনায় রাখে তাহলে আমাদের মত কৃষকরা বাঁচতে পারে। চিতলমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন শেখ বলেন, স্লুইস গেটগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের। তারা যদি আমাদের লিখিতভাবে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয় তাহলে আমরা যথাযথভাবে এর দেখভাল করব।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের জন্য এক শ্রেণির অসাধু লোক এই গেটগুলো তাদের নিজেদের স্বার্থে খুলে দেয়। ফলে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের গেটগুলো দেখভালের জন্য যে লোকবল দরকার তা এখন নেই। তবে লোকবল নিয়োগ হলে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

Comment using Facebook