সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার চক্রের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি: গ্রেফতার ১২

0
80

খুলনা ব্যুরো

সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার চক্রের দৌরাত্ম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রত্যেক বছর বিষ দিয়ে মাছ শিকার করছে অন্যান্য মাছ ও মাছের রেনু বিধন হয়। ফলে সুন্দরবন থেকে মাছ উজাড় হতে চলেছে।

সুন্দরবনের অভয় আশ্রম ঘোষিত সংরক্ষিত এলাকা মোংলার জাপসি নদীর গোলের খালের মুখে অবৈধভাবে নিষিদ্ধ বিষ প্রয়োগ ও জাল দিয়ে মাছ শিকারের সময় শিকার চক্রের মূল হোতাসহ ১২ জেলেকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৬)। শুক্রবার র‌্যাব-৬ এর সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত জানিয়েছেন।

এসসয় সদর কোম্পানী কমান্ডার আল আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম (এসপি) উপস্থিত ছিলেন। আটককৃত আসামিরা হলেন, দাকোপ থানাধীন কালাবগী সুতারখালী এলাকার মোঃ দলিল বৈদ্যর ছেলে মোঃ সাদ্দাম বৈদ্য (২৭), মোঃ দলিল বৈদ্যর ছেলে মোঃ শফিকুল ইসলাম বৈদ্য (৩৮), মোঃ বক্কর গাজীর ছেলে মোঃ জাকির হোসেন (২৮), মৃত আরশাদ মোড়লের ছেলে মোঃ খায়রুল মোড়ল (২৫), আবুল কাশেম গাজীর ছেলে আঃ সালাম গাজী (৩৬), মোঃ আবু সানার ছেলে মোঃ বাচ্চু সানা (৩৫), মোঃ ইউসুফ সরদারের ছেলে মোঃ আবু সাইদ সরদার (৩০), রফিকুল সরদারের ছেলে মোঃ নাজমুল সরদার (২৮), মৃত যুগান্ত মন্ডলের ছেলে মোঃ আবুল হোসেন গাজী (২৮), মোন্তাজ শেখের ছেলে শাহজাহান শেখ (৪৫), মৃত রুহুল আমিন সানার ছেলে মোঃ সালাম সানা (৩০) ও অপর আসামি মৃত তাহের আলী সরদারের ছেলে ইকরামুল সরদার (৩১)। র‌্যাব জানায়, তারা গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে সুন্দরবনের অভয় আশ্রম ঘোষিত বাগেরহটের মোংলার জাপসি নদী এলাকায় নিষিদ্ধ বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে শুক্রবার রাত ১টার সময় আভিযানিক দলটি জাপসি নদীর গোলের খালের মুখে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখতে পায় যে খালের পানিতে অসংখ্য মাছ মরে ভেসে আছে এব ভেসে থাকা মাছ গুলো কয়েকটি নৌকায় তোলা হচ্ছে। নৌকায় থাকা মৎস্য শিকারীরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় আসামিদের কাছ থেকে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের কাজে ব্যবহৃত ৬ বোতল বিষ, ৪টি জাল, ৫ টি ইঞ্জিন বিহীন কাঠের নৌকা ও বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে শিকার করা ৪০০ কেজি মাছ জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত ও আসমিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বাগেরহাট জেলার মংলা থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Comment using Facebook