ফুলতলায় দুই ছাত্রলীগ নেতা সংগঠন থেকে বহিস্কার

0
27

খুলনা ব্যুরো

ফুলতলা এম এম কলেজের ছাত্র সৈয়দ আলিফ রোহান হত্যা মামলা সিআইডিতে। কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেয়া ছাত্রলীগ নেতা হাসিবুল ইসলাম শান্ত ও শেখ আবু হাসনাতকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে।

এদিকে কলেজ ম্যানেজিং কমিটির জরুরী সভায় নিহত রোহানের নামে অ্যাকাডেমিক ভবনের নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত ৩১ মার্চ দিনে দুপুরে ফুলতলা এম এম কলেজ ক্যাম্পাসে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় অনার্স প্রথমবর্ষের ছাত্র সৈয়দ আলিফ রোহানকে। নিহতের পিতা সৈয়দ আবু তাহের টুটুল বাদি হয়ে ৫জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪/ কে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ফুলতলা থানার ওসি (তদন্ত) এস এম শাহাদাত হোসেনকে। ৪নং এজাহার নামীয় আসামি দীপ্ত সাহাকে আটক করা হয়। এক সপ্তাহ পূর্বে পায়গ্রামকসবা গ্রামের একটি স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে হাসিবুল ইসলাম শান্ত, তাছিন মোড়ল, শেখ আবু হাসনাত, ছাব্বির ফারাজিসহ কয়েকজন মেয়েদের ছবি তোলা ও উত্ত্যক্ত করলে রোহান ও তার বন্ধুরা বাধা দেয় বলে দীপ্ত জিজ্ঞাসাদে স্বীকার করে। পরে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজেষ্ট্রেট আদালতে তার ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহন শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন লোমহর্ষক ঘটনার চারদিনে আর কোন আসামি আটক না হওয়া এবং মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় সোমবার রাতে মামলাটি খুলনার সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির খুলনার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, কেস ডকেট গতরাতে হাতে পেয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছি। এজাহারভুক্ত আসামি দীপ্ত সাহা থানা পুলিশের হাতে আটক ও তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেখেছি। ঘটনায় জড়িত আসামিদের আটকের প্রচেষ্টা চলছে। ফুলতলা এম এম কলেজ ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ হাসিবুল ইসলাম শান্ত এবং ফুলতলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু হাসনাত কলেজ ছাত্র রোহান কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ফলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কলেজ শাখা ও ফুলতলা উপজেলা শাখা ইমেজ সংকটে পড়ে। এদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সভাপতি মইনুল ইসলাম নয়ন ও সাধারণ সম্পাদক এসকে সাদ্দাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ফুলতলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু হাসনাতকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়।

ফুলতলা এম এম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি জীম বিশ^াস ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আক্তার স্বাক্ষরিত অনুরূপ বিবৃতিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ হাসিবুল ইসলাম শান্তকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়। একইসাথে তাদেরকে চূড়ান্ত বহিস্কারের জন্য খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। এদিকে ফুলতলা এম এম কলেজের ম্যানেজিং কমিটির জরুরী সভা মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাদিয়া আফরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডিগ্রী ১ম বর্ষের ছাত্র মোঃ হাসিবুল ইসলাম শান্তকে কলেজ থেকে বহিস্কার, রোহানের নামে অ্যাকাডেমিক ভবনের নামকরণ, কলেজ নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং রোহান হত্যা মামলা সংক্রান্ত পূর্ন সহযোগিতার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। অধ্যক্ষ শেখ মিজানুর রহমানের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য শিক্ষাবিদ আলহাজ¦ আনোয়ারুজ্জামান মোল্যা, বিএমএ সালাম, মোঃ সেলিম আহমেদ মহলদার, সহকারী অধ্যাপক ফিরোজা আক্তার, ফুটলাল দত্ত, লুৎফর রহমান, এম এম মোনায়েম হোসেন।

Comment using Facebook