পাইকগাছায় সবজির বাজার অস্থির

0
22

পাইকগাছা সংবাদদাতা

খুলনার পাইকগাছায় পবিত্র রমজান শুরু থেকে ইফতারি খাবারসহ সবজির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। বেশি বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। পৌর সদর ও বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনিসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেজি প্রতি সবজির দাম ১০ থেকে ৪০ টাকা দাম বৃদ্ধি করছে ব্যবসায়ীরা।

সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচ, বেগুন, ক্ষীরাই ও কলার দাম। পৌরসভা, কপিলমুনি, গদাইপুর, নতুন বাজার ও সরল বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। রমজানের আগের সপ্তাহেও কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছিল ৪০ টাকায়। প্রতি কেজি বেগুন আগে ৩০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। পৌর বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আবদুর রশিদ জানান, কেজিপ্রতি টমেটো ২০ থেকে বেড়ে ৪০ টাকা, গাজর ২০ থেকে বেড়ে ৪০ টাকা, শসা ৪০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, পটোল ৪০ থেকে বেড়ে ৬০, কচুর লতি ৩০ থেকে বেড়ে ৬০, ক্ষীরাই ৪০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া মিষ্টি কুমড়া, পেঁপে, করলা, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়স ও বরবটি দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা। নতুন বাজার কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী কবির উদ্দিন বলেন, ‘রমজান শুরুর সঙ্গে সঙ্গে পাইকারি মার্কেটে সবজির দাম বেড়ে গেছে। সে কারণে আমাদের খুচরা বাজারে বেশি দামে মাল বিক্রি করতে হচ্ছে। কপিলমুনি বাজারে মঙ্গলবার আসা ক্রেতা লুৎফর রহমান এফএনএসকে বলেন, রমজান শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ইফতার খাবারসহ সবজির দাম চড়া হওয়ায় অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে। সবজির বাজার স্থিতিশীল রাখতে স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

বাজারে আরেক ক্রেতা আবিরন বিবি এফএনএসকে বলেন, স্বামী দিনমজুর। ভ্যান চালিয়ে চার সদস্যের সংসার চালান। তরিতরকারির দাম বেশি হওয়ায় চাল কিনে যা থাকে তা দিয়ে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। একই বাজারে সবজি কিনতে আসা মহিদুল ইসলাম বলেন, যেভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে তা স্বপ্নেও ভাবা যায় না। এভাবে দাম বাড়লে আমরা সারাদিন রোজা থেকে ইফতারের সময় খাব কি? পাইকগাছা ষোলোআনা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জি এম শুকুরুজ্জান এফএনএসকে বলেন, আমি রোজার আগেই পৌর বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে বাজার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তাদের বলেছি। তারপরও যদি কেউ বাজার অস্থির করার চেষ্টা করে, তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলবো। পৌর প্যানেল মেয়র শেখ মাহাবুবুর রহমান রঞ্জু এফএনএসকে বলেন, পৌর কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সবজির দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে। আমরা প্রশাসনকে বলেছি, কোনো ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে সবজি বিক্রি করলে তাঁকে আইনের আওতায় আনা হোক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম এফএনএসকে বলেন, রমজান মাসে তরিতরকারির দাম বাড়ানো যাবে না। আমরা সবজির বাজারে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবো। অযথা যেন ব্যবসায়ীরা কোনো অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়াতে না পারেন। সে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

Comment using Facebook