অভয়নগরে ব্লাক বেঙ্গল ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী তিমির

0
40

মাসুদ তাজ

তিমির মন্ডল অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের জলাবদ্ধ ডহরমশিয়াহাটী গ্রামের দুলাল চন্দ্র মন্ডলের ছেলে। যশোরের সিটি কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স মাস্টার্স পাশ করেছেন।

চাকরির পেছনে না ছুটে ‘ব্লাক বেঙ্গল’ জাতের ছাগল পালন করে হয়েছেন স্বাবলম্বী। ২০১৮ সালে দুটি ‘ব্লাক বেঙ্গল’ জাতের ছাগল কিনে বাড়ির মধ্যে পালন শুরু করেন তিমির। এক বছরের মধ্যে ৬টি ছাগলের জন্ম হয়। এরপর থেকে তিনি লাভ পেতে শুরু করেন।

পরবর্তীতে বাড়ির পেছনে পানির মধ্যে বাঁশের মাচা তৈরি করে বড় পরিসরে পালন শুরু করেন। শিক্ষিত বেকার যুবক কয়েক বছরের মধ্যে হয়ে ওঠেন একজন সফল উদ্যোক্তা।

বর্তমানে তিমির মন্ডলের খামারে প্রায় ৪০টি ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছোট-বড় ছাগল রয়েছে। ইতোপূর্বে ৬০টি ছাগল চার লাখ টাকায় বিক্রিও করেছেন। নিজে ও তার বাবা-মা ছাগলগুলোর পরিচর্যা করেন। জানা গেছে, পৃথিবীতে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উপায়ে মডিফায়েড মিলে প্রায় তিনশ জাতের ছাগল রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের কালো জাতের ছাগল বা ব্লাক বেঙ্গলকে অন্যতম সেরা জাতের ছাগল বলা হয়।

এ জাতের ছাগল আকারে বেঁটে, কিন্তু শরীরের কাঠামো শক্তপোক্ত ও পেশীবহুল। গায়ের লোম খাটো এবং শিং ছোট হয়। একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ ছাগল বা পাঠার ওজন ২২-৩০ কেজি, ছাগীর ওজন ২০-২৫ কেজি হয়। ১৪ মাসে দুইবার বাচ্চা দেয়, প্রতিবারে অন্তত দুইটি, সব্বোর্চ পাঁচটি পর্যন্ত বাচ্চা দিতে পারে একবারে। এ ছাগল দুধ কম দেয়। খামার সম্পর্কে তিমির মন্ডল বলেন, অনার্স মাস্টার্স পাশ করে চাকরির চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছি। পরে মায়ের অনুপ্রেরণায় বাড়ির মধ্যে দুটি ‘ব্লাক বেঙ্গল’ ছাগল পালন শুরু করি। কয়েক বছরের মধ্যে শতাধিক ছাগল হয়ে যায়। মাসে দু-একটি করে গত চার বছরে প্রায় ৬০টি ছাগল চার লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। তিমির আরো বলেন, ডহরমশিয়াহাটী গ্রামটি ভবদহ অঞ্চলের অন্তর্গত হওয়ায় এখানে বছরজুড়ে জলাবদ্ধতা থাকে। জলের মধ্যে বাঁশের মাচা বানিয়ে খামার তৈরি করেছি। খামারে এখন প্রায় ৪০টি ছোট-বড় ছাগল রয়েছে।

খাবার হিসেবে কচুরীপানা, কাঠালের পাতা, ভুসি ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দেওয়া উন্নতজাতের ঘাস দেওয়া হয়। অনেক যুবক আমার খামার দেখতে ও পরামর্শ নিতে আসেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শংকর কুমার দে বলেন, শিক্ষত যুবক তিমির মন্ডল ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগল পালন করে স্বাবলস্বী হয়েছেন। জলাবদ্ধতার সঙ্গে যুদ্ধ করে ছাগল পালন করে সফল হয়েছেন। তার দেখাদেখি এলাকার অনেক যুবক ছাগল পালন শুরু করেছেন।

তিমির মন্ডল এলাকার যুব সমাজের জন্য একটি মডেলে পরিণত হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, মাংস ও চামড়ার জন্য ‘ব্লাক বেঙ্গল’ জাতের ছাগল বিখ্যাত। মাংস এবং চামড়ার গুনগত মানের জন্য এ জাতের ছাগলকে উৎকৃষ্ট মানের বলা হয়। এছাড়া এটি পালন সহজ এবং বড় কোন জায়গার প্রয়োজন হয় না। এ ছাগলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি।

Comment using Facebook