অভয়নগরে নির্মাণাধীন আশ্রায়ণ কেন্দ্রের মালামাল চুরি: কর্তৃপক্ষ উদাসীন

0
46

মিন্টু রায়, স্টাফ রিপোর্টার

যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের সুন্দলী এসটি স্কুল এন্ড কলেজে নির্মানাধীন বন্যা আশ্রায়ণ (সাইক্লোন সেন্টার) কেন্দ্রে কাজের জন্য রাখা লোহার রড, সিমেন্ট, ইট, বালু, পাথরের খোয়া, স্যানিটেশন পাইপসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল অব্যাহতভাবে চুরি হয়ে যাচ্ছে। এটা জেনেও না জানার ভান করে বসে আছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা।

এলাকাবাসির অভিযোগ এই চুরির ভাগা যাচ্ছে সকলের পকেটে। যে কারণে তারা যেন দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছেন। সরকারের এই দামি মালামালগুলি এভাবে চুরি হলেও যেন মুখে কুলুপ এটে বসে আছেন সংশ্লিষ্টরা। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুন্দলী এসটি স্কুল এন্ড কলেজের নৈশ্য প্রহরী গোপাল মল্লিক এই চুরির ঘটনার মূল নায়ক। গোপাল মল্লিক ওই গ্রামের বারিন্দ্রনাথ মল্লিকের ছেলে।

গ্রামবাসী জানায়, গোপালের বিরুদ্ধে লোহার রড, সিমেন্ট, ইট, বালু, পাথরের খোয়া, স্যানিটেশন পাইপসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল চুরি করে তা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে গতকাল রবিবার সকালে ভবন নির্মানের কাজ বন্ধ করে দেয়।

গ্রামবাসী গোপালের বিরুদ্ধে আরও জানায়, গোপালের নির্দেশে বিভুতি বিশ্বাস ও গণেশ মল্লিক অসৎ উদ্দেশ্যে কয়েকদিন আগে রাতের বেলায় প্রতিষ্ঠান থেকে ১বান্ডেল লোহার রড বাজারে নিয়ে যাচ্ছিলো। ঘটনা সম্পর্কে সুন্দলী এসটি স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, অনেকদিন যাবৎ গোপাল মল্লিকের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ আমি শুনেছি। মালামালসহ অনেকবার গ্রামবাসীর কাছে ধরাও পড়েছে। প্রতিষ্ঠানের নৈশ্য প্রহরী (নাইট গার্ড) হিসেবে এই চুরির ঘটনার সাথে যুক্ত থাকলে আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।

প্রতিষ্ঠানের নবনির্বাচিত গভর্ণিং বডির সদস্য সুজন মল্লিক, সনৎ মল্লিক, সুন্দলী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য প্রকাশ বিশ্বাস, একই গ্রামের প্রনব বিশ্বাস, সুশেন বিশ্বাস, বিজয় মল্লিক, দিলীপ বিশ্বাস (জলদ্বীপ), ঘের ব্যবসায়ী সাধন বিশ্বাস, রাজমিস্ত্রি শ্যামল বিশ্বাস, শিব বিশ্বাসসহ গ্রামবাসী একই অভিযোগ তুলে ধরে বিচারের দাবি করেন।

নবনির্বাচিত গভর্ণিং বডির সদস্য সনৎ মল্লিক বলেন, গ্রামের অধিকাংশ লোক বলছে তুই কতটাকা ভাগা পাইছিস যে এই ঘটনায় কিছু না বলে চুপ করে আছিস, বাধ্য হয়ে আমি প্রতিষ্ঠানে এসে অধ্যক্ষ স্যারের সাথে কথা বলেছি। নির্মানাধীন বন্যা আশ্রায়ণ (সাইক্লোন সেন্টার) কেন্দ্রের কাজ তদারকি ম্যানেজার জাকির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমি গোপালের বাড়িতে খোজ করে কাটা রড, স্যানিটেশন পাইপ, সিমেন্ট বস্তাসহ অনেক মালামাল পাই এবং এসম্পর্কে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে তখনি অবগত করাই। সড়াডাঙ্গা গ্রামের খগেন্দ্রনাথ হালদারের পুত্র ভ্যানচালক আশুতোষ হালদার জানায়, আনুমানিক গত ২১/২২ মার্চ রাতে গোপাল মল্লিক সুন্দলী বাজারের অমর বিশ্বাসের দোকানে পৌছে দেয়ার জন্য আমার কাছে ওয়ারিং পাইপ ও অ্যালবোসহ কিছু মালামাল পাঠায়।

বিষয়টি সম্পর্কে দোকানদার অমর বিশ্বাস জানায়, আমি দোকানে ছিলামনা কিন্তু মালামাল আমার দোকানে দিয়েছিলো, আমি এই ধরনের মালামাল আমার দোকানে বিক্রি করিনা তাই আমি রাখিনি। তবে এগুলো কন্টাক্টর পাঠিয়েছে বলে জানতাম। সুন্দলী এসটি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো: আব্দুল লতিফ বলেন, চুরির বিষয়টি আমি শুনেছি। গোপাল মল্লিক আমার প্রতিষ্ঠানের নৈশ্য প্রহরি হয়ে একই প্রতিষ্ঠানে নির্মানাধীন বন্যা আশ্রায়ণ (সাইক্লোন সেন্টার) কেন্দ্র কাজের মালামাল পাহারাদারের কাজ করে সেই বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না।

লোহার রড বহনকারী সুন্দলী এসটি স্কুল এন্ড কলেজের নির্মানাধীন ভবন কাজের রাজমিস্ত্রির জোগালে সুন্দলী গ্রামের জগদীশ চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে বিভুতি বিশ্বাস ও বারিন্দ্রনাথ মল্লিকের ছোট ছেলে গণেশ মল্লিক বলেন, গোপালের নির্দেশে রাত্রি বেলায় ১বান্ডিল লোহার রড মাপার জন্য আমরা কাজের সাইট থেকে বাজারে নিয়ে আসার পথে কলেজ গেটে (প্রকাশ বিশ্বাসেরর ঘেরের কাছে) এসে ভারের জন্য বইতে না পেরে ফেলে দিই, পরে সেগুলো কি হয়েছে আমরা জানিনা। বিষয়টি সম্পর্কে গোপাল মল্লিক বলেন, ঐদিন রাতের বেলায় আমি বিভুতি ও গণেশকে এক বান্ডিল লোহার রড দিয়ে সেগুলো মাপার জন্য দিয়ে পাঠাচ্ছিলাম। লোহার রড নিয়ে যাওয়ার সময় প্রনব বিশ্বাস দেখে নেয় এবং রাত্রিবেলা হওয়ায় সকলে সন্দেহ করতে পারে ভেবে আমি সেগুলো কলেজে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য বলি। রডের ওজন বেশি থাকায় তারা রডগুলো সেখানে ফেলে রাখে। পরবর্তীতে সেগুলো আমি ফিরিয়ে আনি।

এব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান জানান, এব্যাপারে আমাকে কেহ কোন কিছু জানায়নি। আর ওই বিষয়টি সরাসরি ঢাকা থেকে দেখভাল করে বিধায় আমি কিছুই বলতে পারছিনা, তবে আগামীকাল (আজ) খোজ খবর নিয়ে দেখব।

Comment using Facebook