যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চরম অনিয়ম-দুর্নীতি জেঁকে বসেছে!

0
39

যশোর অফিস

যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে চরম আকারে দুর্নীতি অনিয়ম জেঁকে বসেছে। চিকিৎসকদের দলবাজি আর সরকারি কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবক নামধারী দালাল সিন্ডিকেটের অনৈতিক প্রভাবে পদে পদে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

এখানে কোন চেইন অব কমান্ড বলতে কিছুই নেই। বেঁচে থাকার একমাত্র পথ্য ওষুধ নেই। নেই পরীক্ষা-নীরিক্ষার সরঞ্জাম। যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে দূর-দুরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় গরীব ও নিরীত খেটে খাওয়া মানুষের। গত ২৮ মার্চ সোমবার চিকিৎসা নিতে আসেন আব্দুল খালেক নামে এক বৃদ্ধ।

ঘড়ির কাটায় তখন বেলা সোয়া ১১টা। বৃদ্ধ জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার আসায় সুমন নামে এক প্রতিবেশির ঘাড়ে হাত রেখে পৌঁছান হাসপাতালে। চিকিৎসকের দেখা মেলে তবে প্যাথলজি বিভাগ তাকে হতাশ করে। তিনি বলাবলি করেছেন, আমি ডায়াবেটিকসের রোগী। কিন্তু টেস্ট করাতে পারলাম না। মেয়েরা (নার্স) কইছে সব রকমের টেস্ট করানো বন্ধ রয়েছে। আশায় হাসপাতালে এসে একটি ঔষধ মিলনা। উক্ত বৃদ্ধ যশোর শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূর খাজুরা থেকে এসে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরছিলেন। বৃদ্ধের ন্যায় বারবাজার থেকে চিকিৎসা নিতে আসা গৃহবধূ বাসন্তী দেবনাথ সাংবাদিকদের বললেন,এখানে চেয়ার-টেবিলও টাকা চায়! তদ্বির ও টাকা, দুটোই লাগে। তিনি সরকারী হাসপাতালের ফার্মেসীতে না পেয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে দেড়শ’ টাকার ওষুধ কিনে বাড়ির ফিরতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

এছাড়া, যশোর সদরের বিরামপুর গ্রামের রহমত, আন্দোলপোতা গ্রামের আব্দুল করিম ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম সরকারি ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ করেন। ২৮ মার্চ সোমবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টায় হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগে যোগাযোগ করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। অনেক জরুরি ওষুধের সরবরাহ নেই দাবি করেন দায়িত্বরত কর্মচারীরা। তার মুখে মাস্ক ছিল। নাম বলতে রাজি হননি তিনি।

তিনি বলেন, ওষুধের সংকট লেগেই আছে। হাতে-গোনা কিছু ওষুধ আছে। গত এক মাসে গ্যাসের রোগীদের জন্য ওমিপ্রাজেল বা এন্টাসিডসহ কোনো ওষুধ আসেনি। মাস কয়েক ধরে মৌসুমের রোগের ওষুধের সরবরাহ নেই। শ^াসকষ্ট জনিত বৃদ্ধ/ বৃদ্ধা ও শিশুদের অতিগুরুত্বপূর্ণ মোনাস টেন, ফেক্সো, জিং সালফেটসহ অনেক ওষুধ নেই বলেও জানান ফার্মেসীর ওই কর্মচারী। যশোর শহরের শংকরপুরের এএসকে সুমন নামে এক যুবক অভিযোগ করেন, ২৭ মার্চ রোববার দুপুর দেড়টার দিকে তিনি বেশ কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে যান। সেখানে রশিদ ছাড়াই টাকা চাওয়া হয়।

তিনি বলেন, টাকাই যখন লাগবে তখন সরকারি হাসপাতালে লাইন না দিয়ে ক্লিনিকে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করিয়েছি। তার অভিযোগ যশোর জেনারেল হাসপাতালে তদ্বিরের লোক থাকলে সব মেলে, না থাকলে কিছুই মেলে না। হাসপাতালে চেইন অব কমান্ড বলতে কিছুই নেই। যে যার মতো রোগীর পকেট কাটছে। শহরের ষষ্টিতলাপাড়ার বাসিন্দা মুক্তি নন্দী জানান, ২৯ মার্চ বুধবার তিনি হাসপাতালে যান দুই মেয়ের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করাতে। হাসপাতালের ১৩২ নম্বর কক্ষে প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল। ভিড় সামলে ভেতরে যেতে প্রায় ঘন্টা খানেক সময় লেগে যায়।

অভিযোগ করেছেন নওয়াপাড়া পৌর এলাকার বাসিন্দা জিন্নাত আলী, পলাশী গ্রামের নিয়ামত আলী ও নারাঙ্গালী গ্রামের আফসানা বেগম। তারা জানান, সরকারি উপবৃত্তি পেতে বাচ্চাদের রক্তের গ্রুপ করাতে হচ্ছে। স্কুল থেকে চাওয়া হচ্ছে। সে কারণেই হাসপাতাল থেকে তারা রক্তের গ্রুপ নির্ণয় অনেক কষ্ট করিয়েছেন। আরো অভিযোগ রয়েছে টলি বা হুইল চেয়ারে করে রোগী টানা নেওয়ার ক্ষেত্রে টাকা দেওয়া লাগে। তাছাড়া, রোগীদের ক্যাথেটার পড়াতে গেলে টাকা দেওয়া লাগে। টাকা ছাড়া ক্যাথেটার পড়ানোর ক্ষেত্রে রোগীদের জিম্মি করা হয়। ক্যাথেটারের ন্যায় রোগীর নাকে নল পড়াতেও টাকা গুনতে বাধ্য হয় রোগী ও তাদের দর্শনাথীরা।

এব্যাপারে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আখতারুজ্জামানের সাথে সাংবাদিকদের যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের এসব প্রশ্নের জবাবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, হাসপাতালে কর্মরতরা চিকিৎসাসেবা নিয়ে আন্তরিক না হলে তার একার পক্ষে অভিযোগ কাটানো সম্ভব নয়।

Comment using Facebook