পাইকগাছায় বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ফসলে সেচ: কৃষকের জরিমানা

0
36

পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা

খুলনার পাইকগাছায় রবি মৌসুমে ফসলে সেচে কৃষকের জরিমান করা হয়েছে। পানি সংকট মেটাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সেচ দেওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির খামখেয়ালীপনায় উপজেলার গড়ইখালী কৃষকদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত জরিমানা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে, চলতি রবি মৌসুমে লবণপানি মুক্ত উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নে হোগলারচক, শান্তা, কুমখালী, বাইনবাড়িয়া, আমিরপুর, কানাখালী, বগুলারচক সহ বিভিন্ন গ্রাম জুড়ে প্রায় সাড়ে ৪শ হেক্টর জমিতে তরমুজ, দেড়শ হেক্টর জমিতে উচ্ছে, ঝিঙ্গা, বরবুটি, টমেটো, ১শ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া, সূর্যমুখী সহ বিভিন্ন প্রকার ফসলের আওতায় আনা হয়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে যার সাম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার মেট্রিক টন তরমুজ, ২ হাজার মেট্রিক টন বিভিন্ন প্রকারের সবজি। যা দেশের অর্থনৈতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিমত প্রকাশ করেছেন। এইমূুহুর্তে গোটা এলাকা সবুজ ফসলে ভরে গেলেও চৈত্রের প্রচন্ড তাপদাহে ফসলের ক্ষেতে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এ সংকট মেটাতে কৃষকরা বাড়ীর বিদ্যুৎ মিটার থেকে মোটর সংযোগ করে ১ ইঞ্চি পাইপ লাইনের মাধ্যমে স্থানীয় ঘোষখালী ও কাঠালতলা নদী সহ বাড়ীর আশপাশের পুকুর, জলাশয় থেকে দিগন্ত জোড়া বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতে সেচ সরবরাহ করে আশায় বুক বেধেছেন।

কিন্তু স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ পাইপ লাইনে দিগস্ত জোড়া ফসলী ক্ষেতে সেচ দেওয়ায় পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কাছে এটা কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দক্ষিণ বাইনবাড়িয়ার তরমুজ ও সবজি চাষী কুমারেশ সরদার ও মাধুরী বাইন বলেন, এলাকায় ৮শ বিঘা জমিতে তরমুজ ও বিভিন্ন প্রকার সবজির চাষ হয়েছে। কিন্তু ফসল ওঠার মুখে আমরা তীব্র পানির সংকটে পড়লে পাইপ লাইন দিয়ে ক্ষেতে পানি দিচ্ছি। এ অপরাধে বাড়ীর মিটারের স্বাভাবিক বিলের সাথে অতিরিক্ত দেড় হাজার টাকা জরিমানা করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। যা আমাদের জন্য নাভিঃশ্বাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই অভিযোগ করেছেন জরিমানার স্বীকার স্থানীয় কৃষক পরিতোষ সানা, কুমুদ সানা, রাধা কান্ত সরদার, সুজিত সানা, দিপংকর সানা ও পুষ্পেন সানা ও কানাখালী আমিরপুরের বিজয় রায়, পবিত্র মন্ডল, বিশ্বজিৎ মন্ডল, রঞ্জন মন্ডল, অমল মন্ডল, ফনিন্দ্র নাথ মন্ডল, বাইনবাড়িয়ার সুব্রত মিস্ত্রি সহ বহু কৃষকের। তাদের অভিযোগ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কোনো সতর্কতা ছাড়াই মিটার প্রতি দেড় হাজার টাকা জরিমান করেছেন।

কৃষকদের জরিমানা করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাঁধা সৃষ্টি করেছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা রেহাই পেতে স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জুরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাইকগাছা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম রেজায়েত হোসেন বলেন, অনুমোদন ছাড়াই বাড়ীর মিটার থেকে পাইপ লাইন দিয়ে দূরে ক্ষেতে সেচ দেওয়া আইন সিদ্ধ নয়। বার বার তাগিদ দিয়ে কাজ না হওয়ায় তাদেরকে জরিমানা করা হয়েছে। গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান জি এম আবদুস ছালাম জানান, সবুজ ফসলী ক্ষেতে পাইপ লাইন দিয়ে সেচ দেওয়ায় কৃষকদের জরিমানা করা এটা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাড়া-বাড়ী। তিনি ও সংসদ সদস্য সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু কৃষি ও কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে বলে মন্তব্য করে, যারা রৌদ্রে পুড়ে দিন-রাত শ্রম দিয়ে ফসল ফলাচ্ছে তাদের পুরষ্কৃত না করে ফসল বাঁচাতে বিদ্যুৎ লাইনে সেচ দেওয়ার অভিযোগে উল্টো জরিমানা করা মোটেও কাম্য নয়। তিনি আরো জানান, জরিমানা যাতে না গুনতে হয় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

Comment using Facebook