নড়াইলে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকার নিষিদ্ধ বুক সিলেকশন!

0
39

নড়াইল সংবাদদাতা

নড়াইলে সরকার নিষিদ্ধ বুক সিলেকশন ব্যবসার পায়তারা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। আর এসব বেশিরভাগ অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত রয়েছে শিক্ষক সমিতির নামধারী শিক্ষক নেতারা।

পাবলিকেশন্স কোম্পনিগুলি জানাচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের উপকরণ উপঢৌকন ও নগদ অর্থের চুক্তিতে আমাদের কোম্পানির বই সিলেকশন দেয়া হয়।

জানা যায়, সরকার আইন করে নোট, গাইড ও ব্যাকরণ বই ব্যবসা বন্ধ করেছে। তারপরও কতিপয় অসাধু শিক্ষক নেতা বছরের পর বছর বুক সিলেকশন দিয়ে নোট, গাইড ও ব্যকরণ বই বিক্রির কমিশন হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। তথাকথিত শিক্ষক নেতারা ব্যক্তিগত ভাবে লাভবান হওয়ার জন্য তারা শান্তিপ্রিয় শিক্ষকদের চাপ দিচ্ছেন তাদের সিলেকশন দেয়া ব্যকরণ বই পড়াতে। গত দু’বছর করোনার কারনে তাদের এই অসাধু ব্যবসা মন্দা গিয়েছে।

করোনা কেটে যাওয়ার সাথে সাথে তারা আবার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। মেতে উঠেছে শিক্ষা বিধ্বংসি বই ব্যবসায়। জানা গেছে গত ১৮ মার্চ সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতির অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে সভা করে এ বই ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেতৃবৃন্দ। জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুব কুমার ভদ্র ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ মন্ডল শিক্ষকদের নিয়ে সভা করে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অক্ষরপত্র প্রকাশণীর ব্যকরণ বই সিলেকশন দেন। সমিতির আওতাভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ শ্রেণি হতে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত অক্ষরপত্র প্রকাশণীর ব্যকরণ বই চালানোর অনুরোধ করেন।

গুঞ্জণ আছে অক্ষরপত্র প্রকাশণীর ব্যকরণ বই বিক্রির স্থানীয় এজেন্ট নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ বাজারের প্রভাবশালী একটি পুরাতন লাইব্রেরী। ওই লাইব্রেরির সাথে এ দু’জন শিক্ষক নেতার আলাদা সম্পর্ক রয়েছে। বিক্রিত বইয়ের শতকরা ত্রিশ ভাগ টাকা শিক্ষক সমিতি পাবে এমন অলিখিত গোপন চুক্তিতে অক্ষরপত্র প্রকাশণীর ব্যকরণ বই সিলেকশন দেয়া হয়েছে বলে ব্যাপক গুঞ্জণ উঠেছে। সমিতির আওতাভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরে কমপক্ষে দেড় কোটি টাকার ব্যবকরণ বই বিক্রির সম্ভবনা রয়েছে। সেই হিসেবে প্রায় ৫০ লাখ টাকা কমিশন লুটে নিবে অসাধু শিক্ষক নেতারা।

এমন চুক্তিতে উচ্চমূল্যের অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের ওই ব্যকরণ বই চালানোর সিদ্ধান্তে আপত্তি থাকা সত্বেও হয়রানীর ভয়ে কোন সাধারণ শিক্ষক মুখ খুলতে সাহস পাননি। অভিযোগ রয়েছে জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুব কুমার ভদ্র ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ মন্ডল অন্য কোন শিক্ষকদের কোন মূল্যায়ন করেন না। কারো কোন মতামতের তোয়াক্কা করেন না।

নিজেদের স্বার্থ সুবিধা মত সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষকদের উপর চাপিয়ে দেন। তাদের অনুগত কিছু শিক্ষকদের ম্যানেজ করে বছরের পর বছর নেতা সেজে বই ব্যবসা করে যাচ্ছেন। অধিকাংশ শিক্ষক ব্যকরণ বই ব্যবসার বিপক্ষে। কিন্তু এ দু’জন নেতার কারনে তাদের সকল ভালো উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে।

একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, ত্রিশ পারসেন্ট কমিশনে বই সিলেকশন করানোর কারণে বইয়ের দাম হবে আকাশ ছোঁয়া। এর চেয়ে ডাকাতি অনেক ভালো। যে পরিমাণ টাকা প্রকাশনীর নিকট হতে শিক্ষকরা নিচ্ছেন, তাতে বইয়ের দাম সাধারণ লোকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে না।

শিক্ষকরা এরকম কসাই হলে গরিব অভিভাবকরা কীভাবে বই কিনবে? সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, এবার কোন বুক সিলেকশন করা হয়নি। জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুব কুমার ভদ্র বলেন গতবারে যাদের বুক সিলেকশন করা হয়েছিল, সেই বই চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন করে কোন বুক সিলেকশন করা হয়নি। কারণ গত বছর করোনার কারনে বই বিক্রি না হওয়ায় কোম্পানী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সেই বিবেচনায় তাদের বই এবছর চালানো হবে। ত্রিশ পারসেন্ট কমিশন নেয়ায় বইয়ের দাম বাড়ানো হবে কি-না?

এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেইভাবে কথা হয়েছে, যাতে দাম না বাড়ে। আর যদি বাড়ে খুব সামান্য ১০-২০টাকা বাড়তে পারে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম ছায়্যেদুর রহমান বলেন, অন্যায়ভাবে যদি কেউ শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করেন, তার বিরূদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comment using Facebook