সাতক্ষীরায় উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানি ও টেকসই বেড়ীবাঁধের দাবীতে মানববন্ধন

0
46

হাফিজুর রহমান (সাতক্ষীরা)

শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হওয়ায় সাতক্ষীরা সহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পুকুর ও খাল শুকিয়ে গেছে। পানির স্তর নেমে যাওয়ায় অগভীর নলকুপগুলোতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি খাবার ও গৃহস্থালির কাজ, সেচ, কৃষি ও শিল্প-কলকারখানায় বেড়েছে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার। এবার শুষ্ক মৌসুমে আবহাওয়া ও জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রার ৮০ শতাংশের কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ভূগর্ভস্থ পানির স্বাভাবিক স্তর নিচে নেমে গেছে দুই থেকে ১০ মিটার। যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে দেশের উপকূলীয় এলাকার পানিতে লবণাক্ততা বেড়েছে। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে খরাও। সংশ্লিষ্ট এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নরম মাটি এলাকার ভূমি দেবে যাওয়া ও ফাটল ধরতে পারে বলেও আশঙ্কা আছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বাংলাদের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বছরের মার্চ মাসে ২ হাজার ১১৫ মিলিমিটার এবং এপ্রিল মাসে ৫ হাজার ৪৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়া জরুরি।

২০২১ সালে মার্চ মাসে বৃষ্টিপাত হয়েছিল ৮৪৪ মিলিমিটার, যেটা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬০ শতাংশ কম হয়েছিল। আর ওই বছর এপ্রিল মাসে বৃষ্টিপাত হয়েছিল ৬ হাজার ৫৫৭ মিলিমিটার, যেটা স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি ছিল। সে কারণে গত বছর পানির সংকট অনেকাংশে কম ছিল। কিন্তু চলতি বছরে এখনো বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তেমন দেখা মেলেনি। পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে দেশের ৭৫ শতাংশ এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ২-৩ মিটার নিচে নেমে যায়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এখনো সারা দেশের গৃহস্থলি ও খাবার পানির ৯৪ শতাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। এ উৎস থেকে গ্রাম এলাকায় ৯৯ শতাংশ ও ৮০ শতাংশ শহর এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে দেশের ১৮ শতাংশ নলকূপের পানি উত্তোলনে সমস্যা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও তালা, খুলনার দাকোপ, কয়রা, বাগেরহাটের মোংলা, শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ এলাকায় পানযোগ্য পানি খুবই দুপ্রাপ্য। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে নদ-নদীতে পানি না থাকা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া বাংলাদেশের নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বছর বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে দক্ষিণাঞ্চলসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এ সমস্যা নিরসনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সুপেয় পানি, টেকসই বেড়ীবাঁধ, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলকে দূর্যোগ ঝুঁকিপূর্ন এলাকা ঘোষণা ও জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবীতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। একটি বেসরকারী সংগঠনের (জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরাম) আয়োজনে সোমবার সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন চত্বরে উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ আনিসুর রহিমের সভাপতিত্বে ও জেলা গণফোরামের আহবায়ক আমিনুল খান বাবলু’র সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ, জেলা ওয়ার্কাস পার্টির সম্পাদক অ্যাড. ফাহিমূল হক কিসলু, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য সচিব মুশফিকুর রহমান মিল্টন, জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের সভাপতি ফরিদা আক্তার বিউটি প্রমুখ। বক্তরা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধকে পুঁজিকরে কিছু সরকারি কর্মতকা ও জনপ্রতিনিধিদের ভাগ্য বদলেছে কিন্তু উপকুলীয় অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদল হয়নি। এমনকি বেড়িবাঁধ যেমন ছিলো তেমনি রয়ে গেছে। উপকূলীয় এলাকার মানুষের সুন্দরভাবে বেঁচে জন্য তাদের একটাই দাবী টেকসই বেড়ীবাঁধ ও সুপেয় খাবার পানি। বক্তারা এ সময় সুপেয় পানি, টেকসই বেড়ীবাঁধ, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলকে দূর্যোগ ঝুঁকিপূর্ন এলাকা ঘোষণা ও আগামী জাতীয় বাজেটে উপকূলী অঞ্চলে বিশেষ বরাদ্দের জোর দাবী জানান। মানববন্ধন শেষে তারা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের মাধ্যমে প্রধান মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

Comment using Facebook