নওয়াপাড়ায় কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রেলক্রসিং এর গর্ত যেন মরণফাঁদ

0
198

নওয়াপাড়া ডেস্ক

শিল্প বানিজ্য ও বন্দরনগরী নওয়াপাড়ার সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক নুরবাগ টু হাসপাতাল গেট। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন পাশ্ববর্তী উপজেলা মনিরামপুর হয়ে কেশবপুর থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত যাতায়াত করে হাজার হাজার মানুষ। অথচ সেই সড়কের একমাত্র রেল ক্রসিংটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

রেল কর্র্র্তৃপক্ষের অবহেলায় লাইনের ভিতরের অংশের পিচ খোয়া/ কার্পেট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্ঠি হয়েছে, নেওয়া হয়নি মেরামতের উদ্যোগ। আর তাইতো এই গর্তে আটকে পড়ে প্রতিদিন ঘটছে ছোটবড় নানা দূর্ঘটনা।

বিশেষ করে প্রায় সময় যাত্রীবাহী রিক্সা, ভ্যান, ইজিবাইক, মটরসাইকেলসহ পন্যবাহী গাড়ী আটকে যায় সৃষ্ট গর্তে। স্থানীয়দের সহায়তায় ঠেলেঠুলে কোনমতে উদ্ধার করা হয় আটকে যাওয়া গাড়ী। শুধু তাইনা এরইমধ্যে রিক্সা উল্টে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাই স্থানীয়দের আশঙ্কা আটকে থাকা অবস্থায় ট্রেন চলে আসলে যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে নুরবাগ-স্বাধীনতা চত্ত্বর মধ্যবর্তী রেল ক্রসিং এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নুরবাগ থেকে ছেড়ে আসা ও স্বাধীনতা চত্ত্বর থেকে নুরবাগগামী অধিকাংশ ভ্যান রিক্সা মোটরসাইকেল বা ছোট গাড়ি ক্রসিং এর গর্তে আটকে যাচ্ছে। তখন গাড়ি থেকে যাত্রী নামিয়ে অন্যের সহায়তায় পার হতে হচ্ছে তাদেরকে। আবার কখনো কখনো নির্বিঘ্নে ক্রসিং পার হতে অতিরিক্ত স্পিডে গাড়ী চালাচ্ছে অনেকে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় চা বিক্রেতা গোলক কুমার দে জানান, গত ৩/৪ মাস যাবৎ দেখছি প্রায় সময় গাড়ী আটকে যায়, ভ্যান ভেঙ্গে পড়ে থাকে, রিক্সা উল্টে যায়। গত কয়েকদিন আগে রিক্সা উল্টে পড়ে গিয়ে একজন নারী ও তার কোলের শিশু গুরুতর আহত হয়, এবং পরবর্তিতে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়াও একাধীক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, এখানে গাড়ি আটকে পড়ায় স্বাধীনতা চত্ত্বরসহ আশপাশের এলাকায় তিব্র যানজট সৃষ্ঠি হয়। তরকিুল ইসলাম নামে একজন পথচারী জানান, এই রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। জগবাবুর মোড় এলাকার আসমা বেগম জানান, অল্পের জন্য আমাদের রিক্সাটা উল্টে যায়নি, আমার বাচ্চাটা ভয় পেয়েছে। মটরসাইকেল চালক রাকিব হোসেন জানান, গাড়ির চাকা তুলতে না পেরে অবশেষে ঠেলে পার হয়েছি। ভ্যানভর্তি পন্যসহ আটকে পড়া তকব্বর মোড়ল জানান, ৮/১০ মিনিট লেগেছে গর্ত থেকে ভ্যান টেনে তুলতে।

স্থানীয়রা সহযোগীতা না করলে আরো সময় লাগতো। বড় ধরণের দূর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত রেল ক্রসিং মেরামতের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এব্যাপারে জানতে চাইলে নওয়াপাড়া রেলওয়ের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার মোঃ মাসুদ রানা জানান, আমি বিভাগীয় অফিসে মৌখিক ও লিখিত আবেদন করেছি। দ্রুতই রেলক্রসিং এর মেরামত করা হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি জানি ওখানে প্রায় দূর্ঘটনা ঘটছে, আজও দূর্ঘটনার খবর পেয়েছি।

Comment using Facebook