বাগেরহাটে জমি উদ্ধার করতে গিয়ে সর্বশান্ত একটি অসহায় পরিবার

0
74

বাগেরহাট সংবাদদাতা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে জমি উদ্ধার করতে গিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পথে বসেছে একটি অসহায় পরিবার। সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে তাদের সবকিছু লিখে নিয়েছে টিটব বিশ্বাস নামে এক ব্যাক্তি।

শুধু জমিই লিখে নেয়া নয়, জমি উদ্ধারের জন্য নিয়েছেন নগদ টাকাও। চিতলমারী উপজেলার হাড়িয়ার ঘোপ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ইতিমধ্যে ওই জমির কিছু অংশ বিক্রি করে ৩০ লক্ষাধিক টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন টিটব বিশ্বাস।

প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে অসহায় ওই পরিবারটি। একই সাথে এঘটনার প্রতিকার পেতে ও টিটব বিশ্বাসের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে ভুক্তভোগী অসহায় পরিবার ও এলাকাবাসি। চিতলমারী উপজেলা পরিষদের সামনে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনের পর বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারটির বড় মেয়ে দোলা মন্ডল কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, তার একমাত্র ছোট ভাই অশেক মন্ডলের সাথে চিতলমারী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত নিতাই বিশ্বাসের ছেলে টিটব বিশ্বাসের কয়েক বছর আগে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে অশোক মন্ডলের সম্পত্তির কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে টিটব বিশ্বাস প্রায় ৫ একর সম্পত্তি নিজের নামে আমোক্তার নামা (পাওয়ার অব এ্যাটার্ণি) করে নেন। কিছু জমি তার স্ত্রীর নামে কবলা দলিল করে নেন। পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি অশোক ম-লেকে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও টিটব বিশ্বাস প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তির কিছু অংশ বিক্রি করে দিয়েছেন। বাকি সম্পত্তিও বিক্রির চেষ্টা করছে।

এ পরিস্থিতিতে তাদের পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছে। এখন তাদের বেঁচে থাকার মত কোন অবলম্বন নেই। অশেক ম-লের বৃদ্ধা মা অনিতা ম-ল জানান, ‘সরল বিশ্বাসে জমির সব কাগজপত্র তুলে দিয়েছিলাম টিটব বিশ্বাসের হাতে। সে বলেছিল, তোমাদের বেহাত হয়ে যাওয়া সব সম্পত্তি উদ্ধার করে দেব। তার কথায় রাজি হয়ে আমার একমাত্র ছেলে অশোকের সব সম্পত্তি টিটব বিশ্বাসের নামে পাওয়ার অব এ্যাটার্ণি করে দেই। এখন সে রূপ বদলে উক্ত সম্পত্তি আমাদের ফেরত না দিয়ে ইতিমেধ্য ৩০ লাখ টাকার সম্পত্তি বিক্রি করে সব টাকা সে নিয়ে গেছে। আমাদের এখন কান্নাই একমাত্র সম্বল।’ প্রতারক টিটব বিশ্বাসের কবল থেকে তাদের বেহাত হয়ে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য তিনি প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে টিটব বিশ্বাস সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি নগদ টাকা দিয়ে দলিল নিয়েছিলাম। এখন স্থানীয় কয়েক জনের প্ররোচনায় তারা এমন দাবী করছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইয়েদা ফয়জুন্নেছা জানান, অশোক ম-লের জায়গার বিষয়ে তাকে অবহিত করা হলে তিনি ওসিকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

Comment using Facebook