পাইকগাছায় নিজ উদ্যোগে ওয়াপদার বেড়িবাঁধ সংস্কার করে দিচ্ছেন ঘের মালিক

0
75

পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা

নিজ লীজ ঘেরের সামনে ১ কিলোমিটার ওয়াপদার বেড়িবাঁধ সংস্কার করে দিচ্ছেন পাইকগাছার ঘের মালিক শেখ আনারুল ইসলাম। ইতোমধ্যে গত কয়েকদিনে প্রায় ৭০ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় অবশিষ্ট কাজ কিছুটা থমকে গিয়েছে। পানির ঢেউয়ে যাতে মূল বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ না হয় এজন্য মূলবাঁধের ২০ ফুট দুরত্ব থেকে ৮ ফুটের একটি রিং বা প্রতিরক্ষা বাঁধ দিচ্ছেন। সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে সাধারণ মানুষ নির্বিঘেœ যাতায়াত করার পাশাপাশি অত্র এলাকায় প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। এ ধরণের উদ্যোগকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ বিভিন্ন মহল প্রশংসা করছে।

পাশাপাশি এটি অন্যান্য ঘের মালিকদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। ঘের মালিক শেখ আনারুল ইসলাম জানান, আমি সহ ৪জন ঘের ব্যবসায়ী যৌথভাবে উপজেলার গদইপুর ও কপিলমুনি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী চক স্বর্ণাল ও চক নোয়ালতলা মৌজায় গতবছর থেকে ৭শ বিঘা জমিতে লিজ ঘের করে আসছি। আমাদের ঘেরের সামনে ওয়াপদার যে বেড়িবাঁধ রয়েছে তা দীর্ঘ দিন সংস্কার না করায় বাঁধটি সরু ও দুর্বল হয়ে গেছে। যার ফলে নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু পানি বেশি হলেই বাঁধ উপচে পোল্ডার অভ্যান্তরে পানি প্রবেশ করে। এছাড়া লোকজনেরও চলাচলে ভোগান্তি হয়।

এ বছরের শুরুতেই আমরা উদ্যোগ নেই আমাদের ঘেরের সামনের অংশের এক কিলোমিটার ওয়াপদার বেড়িবাঁধ সংস্কার করবো। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ কাজ শেষও হয়ে গেছে। মূল ওয়াপদার বাঁধ ২০ফুট প্রস্থ ও ৩ ফুট উঁচু করা হচ্ছে। ঘেরের পানির ঢেউয়ে যাতে মূল বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্থ না হয় এ জন্য বাঁধের পাশ দিয়ে ৮ ফুটের আরেকটি প্রতিরক্ষা বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। শেখ আনারুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে আমরা প্রায় ১০ লাখ টাকা বাঁধ সংস্কারে খরচ করেছি।

আমাদের এ উদ্যোগটি অনেকেই প্রশংসা করলেও অনেকেই আবার বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। গদাইপুর ইউনিয়নের অংশ শেষ হওয়ারপর কপিলমুনির অংশে যখন কাজ শুরু করেছি তখন ঘের নিয়ে অনেকের সাথে আমাদের ছোট-খাটো বিরোধ রয়েছে। তারা অনেকেই শুক্রবার এসে কাজে বাঁধ প্রদান করে। এরপর গদাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাজ সাময়িক বন্ধ রাখার জন্য বলে। এদিকে সংস্কার কাজটি শেষ হলে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না এবং এ ধরণের কাজে সকলের সহযোগিতা করা উচিৎ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দার জানান, ঘের ব্যবসায়ী আনারুল যেখানেই লিজ ঘের করে সেখানকার বাঁধ সে নিজ উদ্যোগ সংস্কার করে, এখানেও ব্যতিক্রম হয়নি। নিঃস্বন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ এবং অন্যান্য ঘের মালিকদেরও সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে এগিয়ে আসা উচিৎ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম জানান, ঘেরের পাশের বাঁধ সংস্কার করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ঘের মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। একই ভাবে দুই ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে ঘের মালিক আনারুল ইসলামকেও বাঁধ সংস্কার কাজ করতে বলা হয়েছে।

Comment using Facebook