মণিরামপুরে ধর্ষণ চেষ্টার মামলায় ইউপি সদস্যসহ ২ জন আটক

0
114

মণিরামপুর সংবাদদাতা

মণিরামপুরের ঋষী পল্লীতে ধর্ষণ চেষ্টার বিচার না পেয়ে পূর্ণিমা (৩৭) নামের এক গৃহবধূর ক্ষোভে-দুঃখে আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার গৃহবধূর স্বামী সঞ্জিত কুমার দাস বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ধর্ষণ চেষ্টাসহ আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়। যার মালা নম্বর-০৯। মামলায় এক ইউপি সদস্যসহ পুলিশের হাতে আটক ২ জনকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার আসামীরা হলেন-ধর্ষণ চেষ্টাকারি উপজেলার মনোহরপুর (কাচারীবাড়ি) গ্রামের কফেল ফকিরের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে মির্জা ফকির (৫০), তাগের ফকিরের ছেলে স্থানীয় ইউপি মেম্বার সিরাজ ফকির (৪২), শওকত গাজী ওরফে মান্দারের ছেলে স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোস্তফা (৩৮), মৃত রহমান সরদারের ছেলে আবুল দপ্তরী (৫৫), মিজানুর রহমান ওরফে মির্জা ফকিরের ছেলে আল আমিন (২৮) ও মৃত আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস হোসেন (৩৪)। জানাযায়, শনিবার রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় স্থানীয় মিজানুর রহমান ওরফে মির্জা ফকির।

ইজ্জত বাচাতে গৃহবধূ মির্জা ফকিরের হাতে কামড় এবং চিৎকার দিলে সে (মির্জা ফকির) গৃহবধূকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বজনরা থানায় অভিযোগ করতে আসলে মিমাংসার কথা বলে ফিরিয়ে আনার পরদিন রোববার রাত ৮টার দিকে গৃহবধূর বসত বাড়িতে বসে উল্লেখিত আসামীরা আপোষ-মিমাংসার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু সঞ্জিত ও তার স্ত্রী পূর্ণিমা অসম্মতি জানায়। পরদিন সঞ্জিত ও তার স্ত্রী মনোহরপুর বাজারে গেলে আসামীরা তার স্ত্রীকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে। এতে ক্ষোভে-দুঃখে পূর্ণিমা দাস কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেন।

এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোড়পাড় শুরু হয়। এক পর্যায় থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার রাতেই ইউপি মেম্বার সিরাজ ফকির, আাদুজ্জামান আসাদ ও আবুল দপ্তরীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরদিন ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় আসাদুজ্জামানকে বাদির জিম্মায় দিয়ে অপর দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। মামলার তদন্তকারি কমকর্তা নেহালপুর ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আতিকুজ্জামান জানান, মামলার অন্য আসামীদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মণিরামপুর থানার ওসি(সার্বিক) নূর-ই আলম সিদ্দিকী জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ধর্ষনচেষ্টাসহ আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে নিহত গৃহবধূর স্বামী সঞ্জিত কুমার দাস বাদি হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

Comment using Facebook