মণিরামপুরে দূর্গাপুর সেতু নির্মাণে দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হবে কয়েক গ্রামবাসির

0
134

আসাদুজ্জামান রয়েল, মণিরামপুর

মণিরামপুরে দীর্ঘ প্রতিক্ষিত হরিহর নদীর ওপর দুর্গাপুর সেতু নির্মিত হওয়ায় কয়েক গ্রামের মানুষের কষ্ট লাঘব হতে চলেছে। বছরের পর বছর ভোগান্তিতে থাকা কয়েক গ্রামের মানুষের আশা এবার তাদের জীবনযাত্রা পাল্টে যাবে।

ক্ষেতের ফসল বিক্রি করতে আর তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না। মালামাল মাথায় করে ঝুঁকি নিয়ে সাকো পার হতে হবে না। সাকোর ওপর দিয়ে চলার সময় নদীতে পড়ার ঝুঁকি থাকবে না।

স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে সাকো পার হতে হবে না। বছরের পর বছর হরিহর নদীর উপর বাঁশের নির্মিত সাঁকো দিয়েই পারাপার করে আসছেন দূর্গাপুর গ্রামসহ ওই এলাকার কমপক্ষে ৫ গ্রামের মানুষের।

বর্তমানে এ নদীর উপর সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। কয়েক মাস পরেই জনসাধারনরে চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেয়া হবে। ভূক্তভোগিদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণ হতে চলেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানাযায়, খুলনা বিভাগীয় অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় উপজেলার দূর্গাপুর-মুজগুন্নী সড়কে হরিহর নদীর ওপর এ সেতু নির্মাণে প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৬৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১ টাকা। ইমন এন্টার প্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গেলো বছরের ২৪ এপ্রিল কাজ শুরু করে। সরেজমিন গেলে দূর্গাপুর গ্রামের তপন দাস, আনিছুর, শিক্ষক দিলীপ পালসহ অনেকেই বলেন, সেতুর অভাবে বছরের পর বছর বাপ-দাদা, ঠাকুরদাসহ তাদের প্রজন্ম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

সেতু নির্মাণ হলে শুধু এ উপজেলার দূর্গাপুর, মুজগুন্নী গ্রাম নয়, পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর, গড়ভাঙ্গা, ইমাননগর গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে। সেতুবন্ধন তৈরী হবে দুই উপজেলার মানুষের। গ্রামের যাদের মোটরসাইকেল, ভ্যানসহ ছোট যানবাহন আছে, তাদের অধিকাংশই এসব যানবাহন নিয়ে বাড়িতে আসতে পারেন না। আসতে হলে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়। ক্ষেতের ফসল হাটে নিতে হলে পরিবহন খরচ বেশি পড়ে। এতে করে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হন।

ঠিকাদার প্রতষ্ঠানের কর্ণধার হাজী আনিছুর রহমান বলেন, বর্ষার কারনে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় আড়াই মাস কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন তারা। উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, আগামী জুন মাসে কাজ শেষ হলে জনসাধারনের চলাচলের জন্য সেতু উন্মুক্ত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Comment using Facebook