নড়াইলে মডেল মসজিদ উদ্বোধনের ২ বছরেও শুরু হয়নি নির্মাণকাজ!

0
57

নড়াইল সংবাদদাতা

নড়াইল জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে রয়েছে। ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের পর গত ২ বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও শুরু হয়নি মূল ভবনের নির্মাণ কাজ। পাইলিংয়ের কিছু কাজ করলেও সেটা এখন এলাকাবাসীর জন্য মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

পাইলিংয়ের বেরিয়ে থাকা রডের আঘাতে আহত হচ্ছে শিশু-কিশোররা। এ কাজ নিয়ে একদিকে হতাশ নড়াইলবাসি, অপরদিকে ক্ষুব্ধ। শহরের দুর্গাপুর এলাকায় ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’র ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। জানা যায়, মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছরের জুুনে।

নির্ধারিত সময়ের আট মাস পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু জেলা মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ শুরুই হয়নি। গণপূর্ত বিভাগ বলছে, সব প্রতিবন্ধকতার সমাধান করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করা হবে।

গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে জুলাই মাসে নড়াইল পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকায় জেলা মডেল মসজিদ নির্মানের কার্যাদেশ দেয়া হয়। বরাদ্দ ছিল ১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা। কাজের মেয়াদকাল ছিল ১৮ মাস। ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা নির্মান কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। কার্যাদেশ পাওয়ার পরপরই মেসার্স ইডেন এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেন। অথচ কাজ শুরুর ২ বছরের অধিক সময় পেরিয়ে গেলেও মূল ভবনের নির্মাণ কাজ এখনো শুরু হয়নি।

পাইলিংয়ের আংশিক কাজ শেষ হয়েছে। আর তাতেই প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। ফলে এখনো দৃশ্যমান হয়নি মসজিদটি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মানাধীন মডেল মসজিদের কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলেও এটি যেন এখন এলাকাবাসীর জন্য অনেকটা মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। কারণ পাইলিংয়ের সময় খুঁড়ে রাখা বড় বড় গর্তের ভেতর রডগুলো সূঁচের মাথার মতো উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এর উপর আবার সেখানে বৃষ্টির পানি জমে সুচালো কিছু কিছু রড পানিতে ডুবে আছে। পাশেই খেলার মাঠে খেলতে আসা ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা পড়ে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেয় সরকার। কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় গণপূর্ত বিভাগকে। সেই মোতাবেক নির্দিষ্ট নকশায় নড়াইল জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প শিরোনামে জেলা পর্যায়ে চারতলা ভবন নিমাণ কাজ শুরু হয়। এ মসজিদ নির্মিত হলে ৮শ’ মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া নারী-পুরুষের পৃথক অজু ও নামাজের স্থান, পাঠাগার, গবেষণা কেন্দ্র, হজ্জ যাত্রীদের নিবন্ধন, পর্যটকদের আবাসন ব্যবস্থা, দাওয়াতি কার্যক্রম, হিফজ মাদ্রাসা, মক্তব, মৃত ব্যক্তির গোসলের ব্যবস্থা, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসন প্রকল্পসহ বহুমুখী ইসলামিক কার্যক্রম ও সেবার কথা বলা হয়েছে। মসজিদের সভাপতি নজরুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, ‘মসজিদ নির্মাণ কাজে ধীরগতি না বলে স্থবিরতা বিরাজ করছে বলা যায়। একদিকে, পুরনো মসজিদ ভেঙ্গে ফেলায় অস্থায়ী একটি টিনের ছোট্ট ছাপড়া ঘরে নামাজ আদায় করতে হয়। গাদাগাদি করে মুসাল্লিদের নামাজ আদায় করতে হচ্ছে। আবার একটু বৃষ্টি হলেই ছাউনী দিয়ে পানি পড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মুসাল্লীদের। এমনকি কোরান-কিতাবসহ মসজিদের মূল্যবান জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদের মুসল্লী ইছাহাক মিয়া ও টিপু শেখ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘দুই বছরেও জেলা শহরে মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ না হওয়াটা দুঃখ জনক। পাইলিংয়ের সময় করে রাখা বড় বড় গর্তে পানি জমে থাকায় প্রায়ই ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। তাই মসজিদটি যেন তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ শহরের দূগাপুর এলাকার বাসিন্দা নুরুল হকসহ একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘পাইলিংয়ের গর্তে পানি জমে রডগুলো জং ধরে নষ্ট হচ্ছে। ফলে পরবর্তীতে এর উপর মূল ভবনের নির্মাণ কাজ করা হলে এর স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়বে। মসজিদ মুসলমানদের দুর্বলতার জায়গা। সকলের প্রিয় স্থান। সেই কাজে কাদের গাফিলতিতে এতো দেরি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার।’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইডেন এন্টারপ্রাইজের কর্ণধর আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গণপূর্ত বিভাগ অর্থ ছাড় দিচ্ছে না, তাই কাজ বন্ধ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেড় কোটি টাকার মতো ফান্ড পেয়ে পাইলিংয়ের কাজে শেষ হয়েছে। নতুন করে আর বরাদ্ধ না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।’ নড়াইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজ বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে কাজে ধীরগতি হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Comment using Facebook