মোংলায় পর্যটক দেখলেই দলবেঁধে ছুটে আসছে বানর

0
98

মোংলা সংবাদদাতা

সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্যকে আলিঙ্গন করে রেখেছে এ বানরের দল। চলতি শীত মৌসুমে সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখনো মুখর পর্যটকদের পদচারণায়। সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্র তার মধ্যে অন্যতম। করমজলে পর্যটকদের দেখা মাত্রই খাবারের জন্য দল বেঁধে ছুটে আসে বানর।

এসময় পর্যটকেরা বানরদের চিপস, সফট ড্রিঙ্কসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার খাইয়ে থাকেন। শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা মিলল এমন চিত্রের। তবে এতে খাদ্যাভ্যাস বদলে যাচ্ছে সুন্দরবনের বানরদের। ফলে সুন্দরবনের বানর আর আগের মতো গাছের ফল-মূল, কচিপাতা বা কাঁকড়া ধরে খাচ্ছে না। এই অভ্যাস বদলের ফলে বানরের উৎপাতে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন বলেন, সুন্দরবনে বানরের দল যেমন গাছ থেকে গাছে লাফিয়ে বেড়ায়, জমিতে তাদের সঙ্গে সঙ্গে চলে হরিণের দল এবং অন্যান্য তৃণভোজী প্রাণীরা। কারণ বানর গাছে উঠে যত ফল খায় বা পাতা ছিঁড়ে খায়, তার থেকে বেশি ফল-পাতা নিচে ফেলে।

গাছের তলায় হরিণেরা সেসব কুড়িয়ে খায়। অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হারুন বলেন, আরও একটা কারণ আছে বানরের সঙ্গে হরিণের ঘুরে বেড়ানোর। সেটা একেবারে প্রাণের তাগিদ। বাঘ শিকার ধরতে এলে গাছের উঁচু ডালে বসা বানর সেটা সবার আগে দেখতে পায় এবং চিৎকার করে সবাইকে সতর্ক করে দেয়, তাতে সাবধান হয়ে যায় হরিণের দলও।

ফাস্ট ফুডের লোভে বানরের দল জঙ্গল ছাড়া হওয়ায় জঙ্গলের এই চিরাচরিত নিয়ম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের আসা-যাওয়া তো বন্ধ করা যাবে না, তবে তাদের উচ্ছিষ্ট খাবার ফেলাকে নিয়মে আনতে হবে। ঢাকনা যুক্ত পাত্রে উচ্ছিষ্ট খাবার রেখে তা আবার সময়মতো পরিষ্কার করতে হবে।

এ নিয়ম না মানলে তাদের ক্ষেত্রে কঠোর হতে হবে সংশ্লিষ্টদের। নতুবা বানর সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে। বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের হরিণ, বানর, শুকর, উদবিড়াল বা ভোঁদড়ের সবশেষে শুমারি হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। ওই শুমারির তথ্য অনুযায়ী, বনে বানর আছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার।

সুন্দরবনে আসা পর্যটক রবিউল ইসলাম ও হাফিজুর রহমান বলেন, করমজল পর্যটন কেন্দ্রে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের রুটি ও চিপস কয়েকটি বানর দলবেঁধে এসে ছোঁ মেরে নিয়ে যায়।

Comment using Facebook