চৌগাছায় ব্যাংকে নিয়োগের নামে কোটি টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক চক্র

0
71

চৌগাছা সংবাদদাতা

যশোরের চৌগাছায় সিটি ব্যাংকের তিনটি এজেন্ট শাখায় ২৪ জনকে নিয়োগ দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে জামানতের নামে এক কোটি ২০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে দুই এজেন্ট ও তাঁর প্রতিনিধি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগি ১৭ জন বুধবার চৌগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ এবং একইদিন বিকেলে চৌগাছা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান জাফর ইকবাল ও খদিজা খাতুন। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আমেনা খাতুন। লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগিরা বলেন, ২০১৯ সালের মার্চ মাসে যশোরের শার্শা উপজেলার যাদবপুর গ্রামের জহির উদ্দিন বাবর, যশোর সদর উপজেলার ইছালি গ্রামের আজিজুর রহমান ডেভিড ও চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের তরিকুল ইসলাম সিটি ব্যাংকের চৌগাছা, পুড়াপাড়া ও ছুটিপুর এজেন্ট শাখায় চাকরি দেয়ার দেয়ার জন্য ভুক্তভোগি ১৭ জনসহ মোট ২৪ জনের সাথে যোগাযোগ করেন।

তাঁদের মাসিক ১৪ হাজার টাকা করে বেতন দেয়া হবে বলে বলা হয়। ভুক্তভোগিরা তাদের কথায় প্রলুব্ধ হয়ে আজিজুর রহমান, জহির উদ্দিন বাবর এবং তরিকুল ইসলামের কাছে ব্যাংকের যশোর ও খুলনা জেলার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যবস্থাপক আবু জাফরের উপস্থিতিতে পাঁচ লক্ষ টাকা করে জামানতের টাকা দিয়ে ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় যোগদান করেন। তাঁদেরকে ব্যাংকটির মোট দশটি এজেন্ট শাখার এজেন্ট আজিজুর রহমান ডেভিড ও জহির উদ্দিন বাবরের মালিকানাধিন তাজিমুল টেকনোলজি লিঃ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্যাডে ইংরেজিতে নিয়োগপত্র দেয়া হয়। সেখানে ‘‘ট্রেইনি বিজনেস এক্সিকিউটিভ পদে’’ নিয়োগ দিয়ে ১৪ হাজার টাকা মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয়।

কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও বেতন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। কয়েকজনকে জামানতের টাকার বিপরীতে জহির উদ্দিন মোঃ বাবরের সিটি ব্যাংকের একটি হিসাবের চেকও দেয়া হয়।

ভুক্তভোগিরা জানান, নিয়োগের পর আমেনা খাতুনসহ দুজনকে ঢাকায় ট্রেনিং সিটি ব্যাংকের তত্বাবধানে প্রশিক্ষণ দিয়ে এজেন্ট শাখায় কাজ দেয়া হয়। শহরের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এজেন্ট শাখার কার্যালয় খোলা হয়। এজেন্ট শাখায় কার্যক্রম শুরুর পর প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ৩ মাসের বেতন দেয়া হয় তাঁদের। এরপর নানা অজুহাতে বেতন বন্ধ রেখে ২০২০ সালের মার্চ মাসে এজেন্ট শাখার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন থেকেই ভুক্তভোগিরা এজেন্ট জহির উদ্দিন মোঃ বাবর ও আজিজুর রহমান ডেভিড এবং তাঁদের এজেন্ট শাখার পরিচালক তরিকুল ইসলামের মোবাইল ফোন বন্ধ পান।

এমনকি তরিকুলের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুরের বাড়িতে গিয়েও তাঁকে পাননি ভুক্তভোগিরা। তাঁরা বলেন, জামানতের টাকার বিপরীতে যে চেক দেয়া হয়েছে সেই হিসাবে টাকা তুলতে গেলে বলা হয়েছে ওই হিসাবে কোন টাকা নেই। তাঁরা বলেন, জামানতের টাকা দেয়ার বিষয়ে সব জানতেন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের যশোর ও নড়াইল জেলার ব্যবস্থাপক আবু জাফর। তাঁর সামনেই আমরা জামানতের টাকা দিয়েছি। এছাড়া ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা গৌতমসহ আরও কয়েকজন বিষয়টি অবহিত। অথচ আমাদের জামানতের বিষয়টির সুরাহা না করেই ব্যাংক কর্র্তৃপক্ষ কিছুদিন পরে চৌগাছার অন্য একজনকে নতুন এজেন্ট নিয়োগ করেছেন। তিনি শহরের ধনী প্লাজায় এজেন্ট শাখার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। ভুক্তভোগি ১৭ জন বলেন, আমরা জামানতের টাকা দিতে নিজেদের জমি, গরু, ছাগল বিক্রি করে এমনকি সুদের ওপর টাকা ধার করেছি। এখন তিন বছর ধরে একদিকে বেকার দিনাতিপাত করছি, অন্যদিকে ধার দেনা পরিশোধ করতে না পেরে মানবেতর দিন কাটাচ্ছি। অবশেষে বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ এবং এই সংবাদ সম্মেলন করছি। এসময় ভুক্তভোগি হাফিজুর রহমান, শামীমা নাছরিন, মাজহারুল ইসলাম, আয়েশা খাতুন, তাজিমুল ইসলামসহ অভিযোগকারি ১৭জন উপস্থিত ছিলেন।

সিটি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের নড়াইল ও যশোর জেলার ব্যবস্থাপক আবু জাফর মোবাইলে বলেন, তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি আমি বা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অবহিত নয়। এটা সম্পূর্ণ এজেন্টের দায়িত্ব। তবে সেই ফোনেই তাজিমুল নামের একজন ভুক্তভোগি তাঁর উপস্থিতিতে টাকা লেনদেনের বিষয়টি বললে তিনি বলেন আমি তো সাক্ষী ছিলাম না। আপনারা কর্মচারীদের বিষয়টি না দেখে ইচ্ছেমত এজেন্ট পরিবর্তন করে দিয়েছেন প্রশ্নে আবু জাফর বলেন, কোন এজেন্ট লিখিতভাবে অপরাগতা প্রকাশ করার পর এজেন্ট পরিবর্তন করা হয়।

এসময় তাঁদের চেক প্রদানসহ বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে প্রসঙ্গ পরিবর্তনের চেষ্টা করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলন শেষ হলে আবু জাফরের বক্তব্য নেয়ার পরপরই ব্যাংকটির উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা চৌগাছা প্রেসক্লাব কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে ভুক্তভোগিদের বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বুধবার সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। সন্ধ্যায় ব্যাংকটির কর্মকর্তারা সংবাদ প্রকাশ যেন না হয় বিভিন্নভাবে সেই তদবির করলেও ভুক্তভোগিদের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসম তাঁরা বলেন, অপকর্মের শাস্তি হিসেবে তাজিমুল টেকনলজির এজেন্ট বাতিল করা হয়েছে।

তাঁদের এজেন্ট বাতিল করে ভুক্তভোগিদের আরও বিপদ বাড়ানো হয়েছে বললে কর্মকর্তারা আর উত্তর দিতে পারেননি। চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, এ বিষয়ে ১৭ জন ভুক্তভোগির লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে মামলা নথিভুক্ত করা হবে।

Comment using Facebook