প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরণ করতে প্রস্তুত যশোরবাসি

0
25


মফিজুর রহমান দপ্তরী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ পাঁচ বছর পর যশোরে আসছেন আজ বৃহস্পতিবার। ভাষণ দেবেন এ অঞ্চলের মানুষের উদ্দেশ্যে। সে কারণে মঞ্চ সাজানো হয়েছে লাল গালিচা দিয়ে। তিনি যে পথ দিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করবেন সেই পথ থেকে শুরু করে মঞ্চ পর্যন্ত ঝকঝকে চকচকে লাল গালিচায় মুড়ে দেওয়া হয়েছে। মঞ্চ সাজানোর দায়িত্বে থাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল মজিদ গতকাল বুধবার সকালে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের জায়গা যশোর স্টেডিয়ামে ৫০ বছর পর জননেত্রী শেখ হাসিনা আসছেন। সে কারণে তাকে বরণ করতে যশোরসহ গোটা দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ উদগ্রীব। তিনি জানান, মঞ্চের ব্যাক স্ক্রিন, চেয়ার ইত্যাদি পর্যাপ্তভাবে স্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভার ব্যাক স্ক্রিন করা হচ্ছে চারুকলার ছাত্রদের দিয়ে নান্দনিকভাবে উপস্থাপনের জন্য। এদিকে, গত মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার স্থল পরিদর্শন করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। জনসভাস্থলের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ২৪ নভেম্বর যশোর শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগের জনসভা কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে পাল্টা কর্মসূচি নয়। আমরা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি বলেই এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। নানক আরও বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচন দেশবাসীর কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ; তেমনি দলীয়ভাবেও আওয়ামী লীগের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২৪ নভেম্বর যশোর শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগের স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভা হবে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে যশোরে বড় জমায়েতের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। এ বিষয়ে নানক বলেন, এই জনসভা শুধু স্টেডিয়ামের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকবে না; সমগ্র যশোর শহরেই একটি জনসভাস্থলে রূপ নেবে। এই জনসভা আওয়ামী লীগের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ২৭ মাস পর জনগণের সামনে সরাসরি কোনো জনসমুদ্রে উপস্থিত হবেন। সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের আরেক সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনি আবহাওয়া নিয়েই যশোর দিয়ে শেখ হাসিনার নির্বাচনি জনসভা শুরু হচ্ছে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ সারহান নাসের তন্ময়, যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল প্রমুখ। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় যশোর শহরের কাজীপাড়ায় ‘কাজী শাহেদ সেন্টারে’ গণমাধ্যমে কথা বলেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর পর তিন মেয়াদে ক্ষমতায় এসে যশোরবাসীকে অনেক কিছু উপহার দিয়েছেন। তিনি আরও উপহার দেবেন। কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরবাসীকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছেন, মেডিকেল কলেজ দিয়েছেন, শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক দিয়েছেন, ভৈরব নদ খনন শুরু করেছেন। সম্প্রতি আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের প্রাণের দাবি পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে। এ ছাড়া অতি সম্প্রতি কালনা সেতু উদ্বোধন হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের মূল ভূখ-ের সাথে সুন্দরভাবে যশোরের যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে। কালনা সেতুর মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী যশোর-খুলনা তৃতীয় অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে পরিচিতি পেতে যাচ্ছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের কিছু প্রাপ্তি বাকি আছে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি, তিনি যেন যশোরকে সিটি করপোরেশন করে দেন। আমাদের আরেকটি দাবি, মেডিকেল কলেজের সাথে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরি করে দেওয়া। যশোর বিমানবন্দরটি অত্যন্ত পুরোনো। আমাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করে দেবেন। তিনি সব সময় আমাদের দক্ষিণবঙ্গের মানুষের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে থাকেন। আমরা তার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘করোনা মহামারির পর রাজনৈতিক কর্মকা- হিসেবে ঢাকার বাইরে জনসভার জন্য যশোরকে বেছে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তাকে বরণ করে নিতে যশোরের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সারা জেলায় সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। প্রচুর উদ্দীপনা-উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। মানুষকে সমবেত করতে সকল জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জনসভায় আসতে সবার মাঝে উদ্দীপনা দেখতে পাচ্ছি। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। এর মাধ্যমে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন একটি ধারা সূচিত হবে।

Comment using Facebook