কাতার বিশ্বকাপের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন : স্বাগতিকদের লজ্জার হার

0
20


নওয়াপাড়া ডেস্ক
শুরুটা যে এতটা খারাপ হবে তা বোধহয় কাতারও কল্পনা করেনি। প্রথমবার বিশ্বকাপ আয়োজন করে স্বাগতিক দেশ হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে কাতার। কিন্তু স্বাগতিক দেশের ইতিহাস অক্ষুন্ন রাখতে ব্যর্থ হলো মধ্যপ্রাচের তেলসমৃদ্ধ দেশটি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্বাগতিক দেশ হিসেবে ১ম ম্যাচ হেরে বসলো কাতার। এর আগে আর কোনো বিশ্বকাপেই এমনটা দেখা যায়নি। ইকুয়েডরের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ০-২ ব্যবধানে হেরেছে কাতার। উদ্বোধনী ম্যাচে কাতার মুখোমুখি হয়েছিল ইকুয়েডরের। লাতিন পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই পারেনি কাতার। ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে এগিয়ে থাকে ইকুয়েডর। সেই ফায়দা নিয়ে ম্যাচের ৩ মিনিটের মাথায় ভ্যালেন্সিয়ার গোলে এগিয়ে যায় ইকুয়েডর। কিন্তু ভিডিও এসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে গোলটি অফসাইড ছিল। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু ১ম গোলের দেখা পেতে বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি ইকুয়েডরকে। ম্যাচের ১৬ মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন সেই ভ্যালেন্সিয়া। ম্যাচের প্রথমার্ধের ১৬ মিনিটে ডি বক্সের ভেতর ভ্যালেন্সিয়াকে ফাউল করে বসেন কাতারি গোলরক্ষক সাদ আল সায়েব। আর তাতেই রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে গোল করে এবারের বিশ্বকাপের ১ম গোলটি করেন ইকুয়েডর। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মত কোন উদ্বোধনী ম্যাচের গোল আসলো পেনাল্টি থেকে। ম্যাচের ২৯ মিনিটে টরেস এবং ভ্যালেন্সিয়ার যৌথ একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন খোকি। এর ঠিক ২ মিনিট পরেই আবারো গোল করেন ভ্যালেন্সিয়া। ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে খেই হারিয়ে ফেলে কাতারি দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই চাপ অব্যাহত রাখে ইকুয়েডর। ৫২ মিনিটে প্রেসিয়াডোর শট গোলবারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। ৫৫ মিনিটে মেন্ডেজের করা শট দুর্দান্ত ভঙ্গিমায় রুখে দেন কাতার গোলরক্ষক আল সায়েব। ৭৫ মিনিটে কাতারের আফিফের ২২ গজ দূর থেকে করা শট গোলবারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে না গেলে ১ম গোলের দেখা পেতো দলটি। ম্যাচের শেষ দিকে গোল শোধের প্রচেষ্টা চালালেও স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় আর গোল পায়নি কাতার। ফলে ০-২ ব্যবধানের হার নিয়েই বিশ্বকাপ শুরু করে কাতার। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে গতকাল। কাতারের আল-খোরের আল-বায়াত স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ‘গ্রুপ-এ’র দুই দল ইকুয়েডর ও স্বাগতিক কাতার। রোববার (২০ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হয় ম্যাচটি। এর মাধ্যমে শুরু হয়ে যাবে মাসব্যপী বিশ্বকাপের জমাট লড়াই। প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ হিসেবে কাতারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপে কাতারের এটি প্রথম অংশগ্রহণ। স্বাগতিক হিসেবে কাতার সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে আট বছর অনুপস্থিত থাকার পর বিশ্বকাপে ফিরেছে ইকুয়েডর। কাগজে কলমে কাতারের থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে ইকুয়েডর। এদিকে চার বছরের অপেক্ষার প্রহর শেষ। কাতারের আল বায়ত স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠলো ‘দা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ এর ২২ তম আসরের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে কফি আনানের পর দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যান্ড বিটিএসের গায়ক জাংকুক ও কাতারের ফাহাদ আল কুবাইশি বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘ড্রিমারস’এ পারফর্ম করেন। মাঠে খেলার গড়ানোর আগেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, বিয়ার বিতর্কসহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা-সমলোচনা শুরু হয় কাতার বিশ্বকাপ ঘিরে। তবে সেসব অভিযোগে ভুলিয়ে দিতেই পর্দা উঠলো কাতার বিশ্বকাপের। সবকিছু ছাপিয়ে এখন ফুটবল উৎসবে মেতে থাকবে বিশ্ব। পারস্য উপসাগরের তীরে বিশ্বকাপের মহারণে সামিল হবে সবাই। দোহার আল বায়েত স্টেডিয়ামে উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে ছিলেন অর্ধলক্ষাধিক দর্শক। বাংলাদেশ সময় রাত আটটার দিকে শুরু হয় অনুষ্ঠান। প্রথা মেনে বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে মাঠে ঢুকেন গত বারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের অধিনায়ক হুগো লরিস। বিশ্বকাপের ইতিহাসে শীতকালে এটাই প্রথম আসর। আরব বিশ্বেও এই প্রথম অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপ। আর বিশ্বকাপে প্রথম কোরিয়ান হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন জাংকুক। এশিয়ায় এটি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। ২০০২ সালে জাপানুকোরিয়া বিশ্বকাপে সিউলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল চোখ ধাঁধানো। ৬০ হাজার আসনবিশিষ্ট আল বায়ত স্টেডিয়ামে ছড়ানো হয় আলোর রোশনাই। চোখ ধাঁধানো আতশবাজির জন্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সময় রাতে করা হয়। এছাড়া বিশ্বকাপ উপলক্ষে সাতটি নতুন স্টেডিয়াম তৈরি করা হয়েছে। সরকার বলছে, এতে সাড়ে ছয় বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। মোট ৮টি স্টেডিয়ামে খেলা হবে। ২৮ লাখ মানুষের দেশে এতগুলো স্টেডিয়ামের প্রয়োজন নেই। তাই বিশ্বকাপ শেষে তিনটি রেখে বাকিগুলো অন্য কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

Comment using Facebook