সারাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হলে সাঁড়াশি অভিযানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দেশের কোনও স্বার্থ বিক্রি করবেন না বলে আশ^স্ত করেছেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দেশের কোনও স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করতে পারেন না। গ্যাস বিক্রি করতে চাইনি বলে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। কিন্তু বিএনপি গ্যাস বিক্রির চুক্তি করার পরই ক্ষমতায় আসে ওই সময়। গতকাল বুধবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশ্বাস দেন। নিউইয়র্ক ও ভারত সফর নিয়ে বিভিন্ন সফলতা এবং অভিজ্ঞতা জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তিস্তার পানিবণ্টনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বস্ত করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলোচনার মাধ্যমে পানি সমস্যার সমাধান করা হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ফেনী নদীর পানিবণ্টনের চুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, ‘ত্রিপুরায় যে পানি দেয়া হচ্ছে, তা হচ্ছে খাবার পানি। কেউ খাবার পানি চাইলে, তা যদি না দিই, তাহলে কেমন হয়!’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা আমাদের ঐতিহাসিক বন্ধু। মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার মানুষ আমাদের আগলে রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছে। সেই ত্রিপুরায় সামান্য খাবার পানি দেয়ার জন্য আপত্তি থাকতে পারে না। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, হত্যার ঘটনা শুনে সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকে তাদের সবগুলোকে বহিষ্কার করতে বলেছি।

পুলিশকে বলেছি তাদের গ্রেফতার করতে। কাউকে ছাড় দেব না। অন্যায়কারীর বিচার হবেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুয়েটের এ ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়। এ ঘটনার আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে বলি। কিন্তু পুলিশ যখন সিসিটিভি ফুটেজ আনতে গেল তখন অনেকে বাধা দিল। আইজিপি আমাকে জানালো ফুটেজ আনতে দিচ্ছে না। তাদের আটকে রেখে দিয়েছিল। এ কাজে বাধা দিল কেন? পরে পুলিশ তিন ঘণ্টা পর ফুটেজ এনেছে। একটা কপি তাদেরকেও দিয়েছে। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কে ছাত্রলীগ, কে ছাত্রদল এটা আমি বিবেচনা করব না। আমি বিবেচনা করব অন্যায়ভাবে একটা ছেলেকে মারা হয়েছে। তাকে ২১ বছর বয়সে হত্যা করা হয়েছে। এটা অমানবিক। ২০০১ সালে আমাদের অনেক নেতাকর্মীদের মেরেছে। তাদের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারা হতো। তাদের বাইরে তেমন আঘাত দেখা যেত না, কিন্তু শরীরের ভেতরে জখম হতো, তারা মারা যেত। শেখ হাসিনা বলেন, যারা এ ধরনের ঘটনায় জড়িত, তাদেরকে মেনে নেব না। আমরা কারো নাম জানার অপেক্ষা করি নাই। তার আগেই আমি নির্দেশ দিয়েছি। গ্রেফতার শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, যে মা-বাবা সন্তান হারিয়েছে তার কষ্টটা কী? আমি তো নিজে বাপ-মা-ভাই-বোন হারিয়েছি, আমি তা বুঝি। সাধারণ পরিবারের একটি ছেলে। তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে এভাবে মারা এ নৃশংসতা কেন? এ জঘন্য কাজ কেন? এদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। এবং যত ধরনের উচ্চ শাস্তি দেয়া যায় তা দেয়া হবে। কারণ আমি বিচার পাইনি। আমার মা-বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।

আমি ৩৮ বছরেও বিচার পাইনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক হত্যা হয়েছে। টেন্ডারবাজি করতে গিয়ে দুপক্ষের গুলিতে সানিকে হত্যা করা হয়েছে। ওই বুয়েটে আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। কেউ তাদের গ্রেফতার করেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিদিন বোমা, গুলি হতো, অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল। আমাদের অনেক শিক্ষক বন্ধু-বান্ধব ছিল তারা বলতো- এখন বোমা-গুলি অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় এসে এটি বন্ধ করেছি। শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে দিয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্ররাই সব আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকায় থাকে। আমিও ছাত্ররাজনীতি করেই এখানে এসেছি। এখন একটা ঘটনা ঘটেছে বলেই ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে কেন? তবে কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে নিজেরা সেটি করতে পারে। এসময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বের করে দেন, কোথায় কোথায় অনিয়ম হচ্ছে। আমি কোনো দলটল বুঝি না। শেখ হাসিনা বলেন, এসব তো রাজনীতি না। এই যে ছেলেটাকে হত্যা করা হলো, এর মধ্যে রাজনৈতিক কোথায়? রাজনীতি ছিল জিয়াউর রহমান যখন আমাদের শওকত, অলিউল্লাহকে হত্যা করলেন। তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করেছে। তারা সংগঠন করতে দেবে না, বসুনিয়াকে রাজনৈতিকভাবেই হত্যা করেছে। চুন্নুকে হত্যা করা হয় খালেদা জিয়ার নির্দেশে, জহুরুল হক হলের ভিপি ছিল সে, ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো, এটাই ছিল তার অপরাধ। একটা মাত্র গুলিতে শেষ হয়ে যায় সে, এগুলো ছিল রাজনৈতিক হত্যাকা-।

আবরার হত্যায় রাজনীতি কোথায় সেটা খুঁজে বের করতে হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সেই সাথে আমি আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে বলব, যখন এই ধরনের ঘটনা একটা জায়গায় ঘটেছে, যখন দেখা গেছে এক রুম নিয়ে বসে জমিদারি চাল চালানো, প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিটি হল সব জায়গায় সার্চ করা দরকার। কোথায় কী আছে না আছে, খুঁজে বের করা। কারা মাস্তানি করে বেড়ায়, কারা এই ধরণের ঘটনা ঘটায় সেটা দেখা। সামান্য ১০টাকা ২০ টাকা বা ৩০ টাকা সিট ভাড়ায় এক একজন রুমে থাকবে। তারপর সেখানে বসে এই ধরণের মাস্তানি করবে, সমস্ত খরচ বহন করতে হবে জনগণের ট্যাক্সের পয়সা দিয়ে, এটা কখন গ্রহণযোগ্য নয়। ক্যাসিনো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা এখন ক্যাসিনো খেলায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে বা এ ধরনের জুয়া খেলায় অভ্যস্ত, কেউ হয়তো দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, কেউ হয়তো নানা ফন্দি আঁটছে তাদের বলছি, একটা দ্বীপ খুঁজে বের করেন, সেই দ্বীপে আমরা সব ব্যবস্থা করে দেব। ভাসানচর বিশাল দ্বীপ। এক পাশে রোহিঙ্গা আরেক পাশে আপনাদের ব্যবস্থা করে দেব। সবাই ওখানে চলে যান। সংবাদ সম্মেলনে চলমান ক্যাসিনো অভিযান প্রসঙ্গে জনৈক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে হাসোজ্জ্বলে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। নিউইয়র্ক ও ভারত সফর নিয়ে বিভিন্ন সফলতা এবং অভিজ্ঞতা জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ হতে খুঁজুন

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১