আজ শনিবার ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং রাত ৪:৩৫

add

দৈনিক নওয়াপাড়ার সাংবাদিককে দেয়া পীরজাদা শাহ্ হাদীউজ্জামানের শেষ সাক্ষাৎকার

সাকিব জিকো
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০ সময় : ০২:১৬:২৩

আসলাম হোসেন:
কখনও পীরজাদা, কখনও বা হাদী এ নামে ডাক দিতেন জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। স্নেহের হাদী যখনই দলীয় আন্দোলন, সংগ্রাম বা রাজনৈতিক প্রয়োজনে অভয়নগর থেকে ঢাকার ৩২ নং এ গেছেন, তখনই বঙ্গবন্ধু এ নামে ডেকে নিয়ে কাছে বসিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত আদরের প্রিয় এক টগবগে যুবক নওয়াপাড়ার ইরানী পীর মরহুম হযরত মাওলানা খাজা আব্দুল মজিদ শাহ (রহঃ) এর দ্বিতীয় পুত্র শাহ্ হাদীউজ্জামান। রাজনীতির প্রাণপুরুষ, দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতির আদর্শের প্রতিক, কিংবদন্তি রাজনীতিবীদ, আপদমস্তক আওয়ামী রাজনীতির ধারক, মুজিবিয় আদর্শের বাহক শাহ্ হাদীউজ্জামান। কিশোর বয়সের হাদী থেকে আজকের সত্তরোর্ধ আদর্শিক রাজনীতিবীদ শাহ হাদীউজ্জামান একজন নির্লোভ, নিরহংকারী, সৎ ও সততা লালনকারী সর্বজন শ্রদ্ধেয় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এক মাহান উদাহরন সাদা মনের সাদা মানুষ পীরজাদা শাহ্ হাদীউজ্জামান।

জীবন্ত কিংবদন্তি শাহ্ হাদীউজ্জামানের সাথে অনেক কষ্ট করে একান্তে তার রাজনৈতিক জীবনের ফিরে দেখা কিছু স্মৃতি ও তার জীবদ্দশার শেষ সাক্ষাতকারটি গ্রহন করেছিলেন দৈনিক নওয়াপাড়ার সাংবাদিক। আদর্শের শাহ্ হাদীউজ্জামানদের জীবদ্দশায় তাদের সুখ-দুঃখের, আনন্দ বেদনার, সংগ্রাম আর সততার সময় গুলি থেকে আজকের প্রজন্মের শিক্ষনীয় রয়েছে অনেক। সেই সাথে কিংবদন্তি রাজনীতিবীদদের ত্যাগ ও ত্যাগের মহিমা, ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনকে তুচ্ছ করে দেশ, সমাজ ও সমাজের মানুষের কল্যান ও উন্নয়নে জীবনকে তুচ্ছ করে যিনি সততার প্রতিক আর আদর্শের নীতি এ সমাজে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে রোপন করেছিলেন তা আজন্মকাল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মাঝে ভাস্মর হয়ে থাকবে। যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রাম গুয়াখোলা। সুদুর ইরান থেকে ধর্মপ্রচার করতে করতে আল্লাহর ওলি হযরত খাজা মোহাম্মদ আলী শাহ্ (রহঃ) এখানে তার আস্তানা স্থাপন করে মানুষের কল্যানে আত্মনিয়োগ করেন।

উক্ত পীর আউলিয়ার সন্তান মরহুম পীর কেবলা হযরত খাজা আব্দুল মজিদ শাহ্ (রহঃ) এর দ্বিতীয় পুত্র শাহ্ হাদীউজ্জামানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রামের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য, স্নেহের মানুষের কল্যানে আত্মনিয়োগ, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি আদর্শের রাজনীতি এসব কিছু নিয়ে জীবন্ত কিংবদন্তি আদর্শের প্রাণ পুরুষ শাহ্ হাদীউজ্জামানের পূর্ব পাকিস্তানের শেকল থেকে বেরিয়ে বাঙ্গালী জাতীর সার্বভৌম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের মহা নায়ক স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে গড়ে উঠা আন্দোলনের ডাকে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে আওয়ামী মুসলীম লীগের আন্দোলনে যোগদেন কিশোর শাহ্ হাদীউজ্জামান। দক্ষিণাঞ্চলের তৎকালীন নেতৃবৃন্দের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ তেজদীপ্ত কিশোর শাহ্ হাদীউজ্জামান রাজনৈতিক নেতা এক সংগ্রামী চেতনার প্রতিক বাঙ্গালী জাতীর অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবর রহমানের দৃঢ়চেতা মনোবল, বাঙলার মানুষের মুক্তির আন্দোলনের অগ্র নায়ক, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাঙ্গালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার এক অনির্ধারিত আন্দোলন সংগ্রামের সুতিকাগার শেখ মুজিবর রহমানের ব্যক্তিত্ব, আদর্শ ও বলিষ্ঠ তেজদীপ্তায় মুগ্ধ হয়ে ১৯৬৬ সালে টগবগে যুবক শাহ্ হাদীউজ্জামান আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় একজন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন আপন সত্ত্বায়।

শাহ্ হাদীউজ্জামান দক্ষীণাঞ্চলের দৌলতপুরের অধ্যাপক সুফিয়ানসহ কয়েকজন নেতা ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে দক্ষিণাঞ্চলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। নওয়াপাড়ার পীর সাহেবের পুত্র হিসেবে গোটা দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন সততার এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে। স্বল্প সময়ে সৎ নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন নিজেকে। বাংলার মুক্তির দিশারী শেখ মুজিবের কাছে পৌছে যায় শাহ্ হাদীউজ্জামান ও অধ্যাপক সুফিয়ানের দৃঢ় নেতৃত্বের সফলতার গল্প। পরম স্নেহের শাহ্ হাদীউজ্জামানকে ডেকে নিয়ে যান ৩২ নম্বরে। শাহ্ হাদীউজ্জামান ঢাকায় যেয়ে পুরনো পল্টনের হাউজ বিল্ডিংয়ের পেছনে আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে দেখা করেন। স্ব-মহিমায় উদ্ভাসিত এক অনবদ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী অকুতোভয় স্বাধীনচেতা বাঙ্গালীজাতীর স্বপ্নের ধারক শেখ মুজিব গায়ে হাত বুলিয়ে স্মিত হাসিতে উচ্চারন করেন, “ ভেরী গুড ইয়াং পীরজাদা। এগিয়ে যাও। সংগ্রামের প্রস্তুতি নাও। তুমিই পারবে।” এই সামান্য উক্তিটিই আরও উজ্জিবিত করে তোলে ইরানী পীরের বংশধর প্রিন্সের মতো সুন্দর চেহারার অধিকারী শাহ হাদীউজ্জামানকে।

আগামী দিনের সংগ্রামের অন্যতম সদস্যদের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের একজন প্রতিশ্রুতিশীল বাংলাদেশের একজন যোগ্য আদর্শের সৈনিক হিসেবে নিজের ও পরিবারের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে মুজিবরের ৬ দফা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। দক্ষিনবঙ্গের কয়েকজন নেতৃত্বের মধ্যে শাহ্ হাদীউজ্জামান মুজিবের স্বপ্নের আন্দোলনের এক আপোষহীন নেতা হিসেবে রাজপথের আন্দোলনকে বেগবান করতে চষে বেড়ান সারা দক্ষিনবঙ্গ। দলের কোন বড় পদ তিনি আকড়ে ধরেননি কখনো। অথচ দক্ষিনবঙ্গের অনেক জেষ্ঠ নেতাদের মধ্যেও তিনি ছিলন শেখ মুজিবের নিকট আওয়ামীলীগের আকাশে দক্ষিণাঞ্চলের প্রজ্জ্বলিত এক আদর্শিক সৎ নেতৃত্ব। যাকে ঘিরে শেখ মুজিবের আস্থা তৈরি হয়েছিলো। স্বাধীন বাঙলার স্বপ্নের আন্দোলনের একজন বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে শাহ্ হাদীউজ্জামানের উপর মুজিবের ছিল তৃপ্ত আস্থা।

ইরানী পীরের ঔরসজাত সাদা মনের সততার প্রতিক সর্বজন শ্রদ্ধেয় আওয়ামীলীগের দক্ষিনাঞ্চলের অন্যতম পুরোধা শাহ্ হাদীউজ্জামান সমগ্র দক্ষিনাঞ্চলে মুজিবীয় দাওয়াত পৌছে দিয়ে ৬ দফার আন্দোলনকে একমাত্র দাবীতে গণমানুষের মনে আলোড়নের ঝড় তোলেন। তার একাগ্র ও দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে দক্ষিনাঞ্চলের লাখো মানুষ মুজিবের আহবানে শাহ্ হাদীউজ্জামানের নেতৃত্বে গণ আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়। সাধারণ মানুষ শাহ্ হাদীউজ্জামানের নির্মোহ ত্যাগী রাজনীতির কাছে বশিভূত হয়ে আওয়ামীলীগ অর্থাৎ মুজিবের ৬ দফার আন্দোলনে শরীক হতে দলে দলে হাজার হাজার মানুষ আন্দোলিত হয়ে ওঠে শাহ্ হাদীউজ্জামানকে ঘিরে। মুজিবের পরম ¯েœহের পীরজাদা হাদী একজন যুবক। অথচ পরিপূর্ণ রাজনীতিক হিসেবে সর্বজন গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠে।

৬ দফার আন্দোলনের দক্ষিণাঞ্চলের অগ্র সৈনিক পীরজাদা শাহ হাদীউজ্জামান শেখ মুজিবের আপোষহীন সংগ্রামের একজন বলিষ্ঠ নেতা হিসাবে মুজিবের নেতৃত্বে ৭৯ এর পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের (গচঅ) হিসাবে মনোনয়ন লাভ করেন। পাকিস্তানের ৫টি প্রদেশের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯ টি আসনের মধ্যে আওয়ামীলীগ ১৬৭ টি আসনে বিজয়ী হন। আর ঐ প্রাদেশিক পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ অথচ বৈপ¬বিক নেতৃত্বে ও মুজিব আদর্শের অগ্রসৈনিক শাহ হাদীউজ্জামান বিপুল ভোটে জয়লাভ করে মুজিবের স্নেহধন্য পীরজাদা রাজনীতিতে এক প্রজ্জ্বলিত শিখা হিসাবে আবির্ভূত হন। দক্ষিণাঞ্চলের সকল এলাকার প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের সাথে তিনি আওয়ামীলীগের সংগঠনকে শক্তিশালী এবং শেখ মুজিবের স্বপ্নের সোনার বাংলার স্বপ্নবীজ বপনে রাত-দিন রাজনীতিকে আকড়ে ধরে একজন পরিপূর্ণ দেশপ্রেমিক রাজনীতিক এবং মুজিবের যোগ্য স্নেহধন্য নেতা হিসাবে বাংলার দামাল ছেলেদের সাথে নিয়ে মুজিবের স্বপ্নের তরীতে নৌকা বাইতে বাইতে এগিয়ে চলেন। ৭০ সালে পাকিস্তানের স্বৈর সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে মুজিবের দাবী বাঙালী জাতির স্বপ্নের দাবী হিসাবে রুপ লাভ করে।

গর্জে ওঠে শেখ মুজিবের কণ্ঠ আর সেই গর্জনের সুরে ও তালে বাঙালী জাতি একাকার হয়ে যায়। এ দাবী আদায়ের সংগ্রামে অগ্রসৈনিকদের মধ্যে পীরজাদা শাহ হাদীউজ্জামান অন্যতম একজন কান্ডারী। ৭০সালের নির্বাচনে শেখ মুজিব এর আওয়ামীলীগ নিরংকুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেলেও যখন পাকিস্তানের শাসকরা পূর্বপাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন দিতে অস্বীকার করে। তখনই বাংলার মূর্ত প্রতিক বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিব ডাক দেয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের। সেই আন্দোলনের অগ্রসৈনিক দক্ষিণাঞ্চলে নেতৃত্বদানকারীদের অন্যতম নেতা হাদী আর ঘরে ফেরেননি। গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষকে উজ্জিবিত করতে গ্রাম থেকে গ্রামাঞ্চলে, শহরতলিতে, থানা থেকে জেলা শহরে, সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে শেখ মুজিবের দাওয়াত পৌছে দিয়ে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করেছেন। আত্মীয় পরিজন-পরিবার এমনকি নিজের প্রানকে তুচ্ছ করে রাজপথে নেমেছেন মুজিবের আদর্শের সংগ্রামে। বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন বুকে ধারণ করে সংগ্রামের ডাক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তখন সারা পূর্ব পাকিস্তানের নির্ভরযোগ্য নেতৃবৃন্দের সাথে পীরজাদাকেও ডেকেছিলেন।

১৯৭১ এর উত্তপ্ত মার্চের প্রথম দিকে ঢাকায় পৌছেছিলেন শাহ হাদীউজ্জামান। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা এবং তার স্বপ্নের সোনার বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালী জাতীকে অন্তরালে রেখে নিজেই লালন করেছিলেন। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন কিভাবে করতে হবে বঙ্গবন্ধু সেই নির্দেশনা দিতেই ডেকেছিলেন বলে জানালেন পীরজাদা শাহ হাদীউজ্জামান। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ যখন বাস্তবতায় রুপ লাভ করতে প্রস্তুত। বঙ্গুবন্ধু যখন নিজের জীবনকে বাজি রেখে স্বাধীনতার আন্দোলনের দিকে ধাবিত। তখন থেকে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের স্থপিত বঙ্গবন্ধুর সান্নিদ্ধ্য এবং মহাপুরুষ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সাথে তার কিছু স্মৃতি জীবদ্দশায় প্রকাশ করেছিলেন দৈনিক নওয়াপাড়ার কাছে। উত্তাল মার্চ ১৯৭১। শেখ মুজিব বাঙ্গালী জাতীর মুক্তির প্রস্তুতি নিতে সকল নেতা-কর্মীকে গোপনে বার্তা পৌছে দেন। তখন বৃহত্তর যশোর জেলার ১৩ জন গচঅ এর মধ্যে ২৬ বছরের সর্বকনিষ্ঠ প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য শাহ্ হাদীউজ্জামান।

পীরজাদা সকল গচঅ দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে বঙ্গবন্ধুর ডাকে যেকোন মুহুর্তে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিতে সারা দক্ষিণাঞ্চল চষে বেড়ান। বাঙ্গালী জাতির মুক্তির আন্দোলন, সোনার বাঙলার স্বপ্নের কথা আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিদ্যুৎ গতিতে পৌছে যায়। আর এ আন্দোলনকে সফল করতে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা প্রদানের জন্য খুলনাঞ্চলের শ্রমিকদের ১ দিনের বেতন ও আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের দেয়া বেশ বড় অংকের একটি তহবিল নিয়ে অধ্যাপক সুফিয়ান ও শাহ্ হাদীউজ্জামান ২৪ মার্চ পৌছে যান ঢাকায়। শাহ্ বাগের একটি হোটেলে উঠলেন ওনারা। ২৫ মার্চ সকালে ৩২ নং এ পৌছালেন তারা। ৩২ নং ঘিরে তখন মানুষের ঢল। আপোষহীন মুজিব তখন গর্জে উঠেছে। লড়াকু জনতা মুজিবের নির্দেশনার অপেক্ষায়। যুদ্ধে নামতে হবে। হটাতে হবে পাকিস্তানিদের। মুজিবের কথা একটি। বাংলার মানুষকে মুক্ত করে স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। মানুষের ভীড় ভেঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কছে পৌছাতেই তিনি হাদীকে দেখেই বলে উঠলেন “হোয়াই ইউ আর হেয়ার? লিভ ঢাকা এটওয়ান্স।” বঙ্গবন্ধুকে তহবিলের অর্থের কথা জানিয়ে দলের তহবিলে জমা দিয়ে আবার ফিরে গেলেন হোটেলে। ঢাকার উত্তপ্ত অবস্থা মানুষের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা, কি হবে? যুদ্ধ অবসম্ভাবী,অনিবার্য।

এমন অবস্থায় ফরিদপুরের তৎকালীন ক্যাপ্টেন শওকতের (বর্তমান ডেপুটি স্পীকার) ১টি গোপন চিঠি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী এফ. রহমানের নিকট পৌছে দেয়ার গুরু দায়িত্ব নিয়েছিলেন পীরজাদা। ২৫ মার্চ কালো রাতে যখন পাকিস্তানী বাহিনী তাদের বর্বরোচিত হামলা চালাতে শুরু করে দিলো তখন নিজের জীবন বাজি রেখে গুরুত্বপূর্ণ অত্যন্ত গোপনীয় ক্যাপ্টেন শওকতের চিঠি পৌছে দিতে ছুটলেন পীরজাদা বাংলামটরে এফ. রহমানের বাসায়। রাত ৩ টার দিকে চিঠি পৌছে দিয়ে গোলাগুলির মধ্যে পৌছালেন হোটেলে। সারাদিন কারফিউয়ের মধ্যে না খেয়ে হোটেলের অভ্যন্তরে অবস্থান নিয়ে ২৬ মার্চ রাতে যখন ঢাকায় ব্যাপক গোলাগুলি সেই রাতের প্রাতুষ্যে অর্থাৎ ২৭ মার্চ সকাল ৮ টার দিকে যখন কারফিউ শিথিল হয় এই ফাঁকে মিরপুর হয়ে রওয়ানা দেন। মিরপুরে তখন নন বাঙ্গালী তথা বিহারীরা চাপাতি হাতে বাঙ্গালীদের উপর ঝাপিয়ে পড়েছে। আল্লাহর উপর ভরসা করে তাদের সামনে দিয়েই রওয়ানা দিলেন সুফিয়ান সাহেবকে সাথে নিয়ে। চুন বোঝাই নৌকায় করে কোন রকমে জীবন নিয়ে ২ জনে এসে পৌছান গঙ্গানন্দপুর।

সেখান থেকে কিভাবে পৌছাবেন এমন চিন্তার মধ্যে হঠাৎ করেই হারিয়ে ফেলেন আবু সুফিয়ানকে। বিভিন্ন রাস্তা-গ্রাম ঘুরে পীরজাদা পৌছান নড়াইলের শাহবাদ। সেখান থেকে নওয়াপাড়া অনেক কাছে হলেও তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। তিনি সোজা পৌছান সাতক্ষীরা। সাতক্ষীরার আ’লীগ নেতা কামাল বখতকে সাথে নিয়ে ভোমরা বর্ডার হয়ে পৌছান ভারতের কলকাতায়। ওখানে গিয়ে যে হোটেলে উঠেছিলেন, সেখানে অভয়নগরের মরহুম নুরুল হক মোল্যা (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান) সহ অনেককে পেয়েছিলেন। তারপর শুরু মুক্তিযুদ্ধকে সফল করতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া সকলকে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা। একজন মূখ্য সংগঠকের ভূমিকায় তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্নের অন্যতম সৈনিক। শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া বাঙ্গালীদের দেখাশোনা। যুবক কিশোরদের অস্ত্র সরবরাহ ও ট্রেনিং এবং দেশের অভ্যন্তরে কিভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করতে হবে সেই নির্দেশকদের মধ্যে পীরজাদা অন্যতম একজন হিসেবে সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভারতের দেরাদুনে নিজে ট্রেনিং নেন এবং অন্যদের ট্রেনিং প্রদানে ভূমিকা রাখেন।

দেশে তার পরিবার পরিজন কে কোথায় কিভাবে আছে এ চিন্তা তার মাথায় কখনও আসেনি। তিনি শুধু ভেবেছেন শেখ মুজিবের কি হবে। যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হয়ে দেশ স্বাধীন করতে পারবো কিনা? ভারতের দেরাদুনে তখন হাজার হাজার বাঙ্গালী সম্যকযুদ্ধে অংশ গ্রহনের যোগ্য মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রস্তুত করে গড়ে তোলার জন্য ব্যাপক ভূমিকা রাখেন শাহ্ হাদীউজ্জামান। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের জন্য বাঙ্গালী জাতীকে প্রস্তুত হতে যখন সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন তখন বাংলাদেশ লেবারেশন ফোর্স নামে ১৯ সদস্যের একটি কেন্দ্র কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করে রেখেছিলেন। যে কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় পুত্র শেখ জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি মরহুম ইলিয়াজ আহমেদ চৌধুরী( বর্তমান হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী লিটন ও এমপি নিক্সন চৌধুরীর পিতা), পীরজাদা শাহ্ হাদীউজ্জামান, আ.স.ম আব্দুর রব, শাহাজান সিরাজ, বর্তমান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, চট্টগ্রাম রেডিও ষ্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত স্বাধীনতার প্রথম বেতার ঘোষক মহিউদ্দিন, বর্তমান শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমুসহ ৪ জন সেক্টর কমান্ডার ও অন্যান্যরা।

বাংলাদেশ লেবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) এর নেতৃবৃন্দরা ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সকল প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সাথে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। বাঙ্গালী মুক্তিযোদ্ধারা যখন একে একে বাংলাদেশের বিভিন্ন ভূখন্ড জয় করতে শুরু করে। সেই সময় হেলিকপ্টার ও কার্গো বিমানযোগে ভারতীয় মিত্র বাহিনীকে পাঠাতে শুরু করে বন্ধু রাষ্ট্র ভারত। আর এসকল কিছু পরিচালনার অন্যতম নায়কদের একজন পীরজাদা শাহ্ হাদীউজ্জামান। দেরাদুনে বাঙ্গালী মুক্তিযোদ্ধাদের যখন গ্রেনেড ছোড়া, মাইন বিস্ফোরন ঘটানোর ট্রেনিং চলে তখন মুৃক্তিযোদ্ধা পীরজাদা শাহ্ হাদীউজ্জামান সক্রিয় অংশ গ্রহন করেন এবং সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসী ভূমিকা রেখে দেশ স্বাধীনের জন্য সকল নির্দেশনা দিতেন। অক্টোবর মাস। একদিকে দেশ স্বাধীনের খন্ড খন্ড এলাকা জয়ের সংবাদ অন্যদিকে মিত্র বাহিনীকে পাঠানো নিয়ে দিন-রাত ব্যস্ত পীরজাদা। পরিবারের লোক, স্ত্রী-সন্তানদের খবর নেয়ার কথা ভূলেই গিয়েছিলেন।

১২ অক্টোবর স্বাধীনতাকামী বীর মুক্তিযোদ্ধা পীরজাদার হৃদয়ে ভেসে উঠে তার বড় পুত্র সন্তান শাহ্ ফরিদ জাহাঙ্গীরের জন্মদিন। তিনি নিজ হাতে গ্রেনেড বিস্ফোরন ঘটিয়ে ফরিদের জন্মদিন স্বাধীনতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন। তারপরও থেমে থাকেননি তিনি। দেশ মুক্তির আন্দোলনে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় মিত্র বাহিনীকে যুদ্ধের ময়দানে পাঠিয়ে একজন সফল সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। এদিকে পীরজাদার সেজ ভাই বর্তমান নওয়াপাড়ার পীর কেবলা হযরত খাজা আলহাজ্ব রফিকুজ্জামান শাহ্ও ভারত থেকে মুক্তিযোদ্ধার ট্রেনিং নিয়ে তার বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে সীমানা পেরিয়ে জয় বাংলার স্লোগান আর স্বাধীনতার পতাকা উড়িয়ে অস্ত্র হাতে হানাদার পাক সেনাদের হটাতে হটাতে নওয়াপাড়ায় এসে উপস্থিত হন ৯ ডিসেম্বর। তারপরদিন প্রতুষ্যে নওয়াপাড়ায় পৌছান শাহ্ হাদীউজ্জামানসহ তার সাথে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা।

নওয়াপাড়ায় থেকে তখন তিনি দক্ষিণাঞ্চলের সেক্টর কমান্ডারসহ অন্যান্য কমান্ডারদের সাথে যোগাযোগ করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করতে থাকেন। হৃদয়ের গভীরে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির স্বপ্ন লালন করে বীরদর্পে একের পর এক দক্ষিণাঞ্চল শত্রু মুক্ত করতে থাকেন। ধীরে ধীরে একের পর এক পাক হানাদার বাহিনী নাস্তানাবুদ মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর কাছে। সম্মুখ যুদ্ধে পরাস্থ হানাদার বাহিনী। দক্ষিণাঞ্চলের সকল মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীকে সকল প্রকার সহযোগীতা প্রদানের ব্যবস্থাপনায় সার্বক্ষনিক নিজেকে ডুবিয়ে রেখেছিলেন স্বাধীনতার এই মূর্তমান আদর্শ পুরুষ। ১৬ ডিসেম্বর যখন সারা বাংলায় জয় বাংলার জয়ধ্বণী। চারিদিকে বাঙ্গালী জাতির সত্ত্বা, স্বাধীনতার গৌরবউজ্জ্বল এক আবেগঘন মুহুর্ত। বইছে পাড়ায় মহল্লায় স্বাধীনতার পতাকা উড়িয়ে ৯ মাসের দীর্ঘ সংগ্রামের আত্মতৃপ্তির বিজয়ের মিছিল।

পীরজাদা তখন নওয়াপাড়ার পীরবাড়িতে অবস্থান করছেন। বিজয়ের আনন্দ তাকে আচ্ছাদিত করেছে এক পাহাড় ভালোবাসা হৃদয়ের গভীরে জড়িয়ে তিনি তখন উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় চারিদিকের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ঘিরে। মুক্তিযুদ্ধে যে সকল বীর বাঙ্গালী জীবন দিয়েছেন তাদের খবর এবং তাদের পরিবারের খবর নিতে তিনি ছুটে চলেছেন দক্ষিণাঞ্চলের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। পীরজাদাসহ দক্ষিণাঞ্চলের নেতৃবৃন্দ তখন বঙ্গবন্ধুর পরিনতির ভাবনায় নিজেদেরকে উদ্বেগে প্রহর কাটাচ্ছিলেন। আর আল্লাহর দরবারে শুধু বঙ্গবন্ধুর মুক্তি আর স্বাধীন বাংলার যাত্রার অপেক্ষায় দোয়া করেছেন। এরই মধ্যে প্রথম বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রদান করে পাশ্ববর্তী ভূটান। এরপর ভারত। তারপর একে একে অনেক দেশ। আওয়ামীলীগের তৎকালীন নেতৃবৃন্দের সেই গৌরবউজ্জল সময় অতিক্রান্ত হয় শুধুই বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে। সারা পৃথিবীর চাপের মুখে বাংলার স্বাধীকার নেতা, স্বপ্ন দ্রষ্টা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে পাকিস্তান মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

এ খবরের পর বাংলার সাড়ে সাত কোটি মুক্তিপাগল জনতার সাথে আবেগ আপ্লুত পীরজাদা শ্হা হাদীউজ্জামান ছুটে যান ঢাকায়। ১৯৭১-এর ১০ জানুয়ারী স্বাধীন বাংলার মাটিতে পা রাখেন বঙ্গবন্ধ’ মুজিব। সেদিন ছিল বাংলার জনতার এক ঐতিহাসিক মুহুর্ত। সে মুহুর্তটিকে অতি কাছের থেকে বরন করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতিক সাদা মনের সাদা মানুষ, পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতা পীরজাদা শাহ্ হাদীউজ্জামান। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচরদের নিয়ে বাংলাদেশকে পূনর্গঠন করে কিভাবে স্বাধীনতার সফল পরিসমাপ্তি এনে মহা দূর্যোগ মোকাবেলা করে ধ্বংসস্তুপ থেকে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সে ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু যখন একের পর এক বৈঠক করে চলেছেন, সেই সব বৈঠকে মুজিবের ¯েœহের হাদী উপস্থিত থেকে মুজিবের আদরের পীরজাদা অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছিলেন গোটা দক্ষিণাঞ্চলের পূনর্গঠনে। দেশকে সাজানোর এক নতুন সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ বিশ্বস্ত পীরজাদা অবিরাম দৌড়িয়েছেন।

একইভাবে তিনি আওয়ামীলীগের সংগঠনকে শক্তিশালী করে চলেছেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের প্রতি তিনি স্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। এরপর পীরজাদা বারবার ছুটে গেছেন বঙ্গবন্ধুর কাছে দক্ষিণাঞ্চলের সকল কার্যক্রম, বিধ্বস্ত দক্ষিণাঞ্চলকে পূণর্গঠন, ভঙ্গুর কলকারখানা চালু করে শ্রমিকদের পূনর্বাসন কিভাবে করা যায় তা নিয়ে অব্যহত কর্মকান্ড চালিয়েছেন শাহ্ হাদীউজ্জামান। ২৬/২৭ বছরের যুবক নিজের পরিবার পরিজন ছেড়ে মুজিবের আদর্শে উজ্জিবিত হয়ে জীবনের লোভ-লালসাকে পদদলিত করে আওয়ামীলীগের রাজনীতির ঝান্ডা শক্ত হাতে ধরে এগিয়ে চলেছেন । আজকের রাজনীতিতে বিতর্কের উর্দ্ধের রাজনীতিবীদ আছে কিনা তা গবেষনার ব্যাপার। কিন্তু ষাটের দশক থেকে রাজনীতির মাঠে যার বিচরন। যিনি দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতির সাথে নিজেকে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবীদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সেই পীরজাদা শাহ্ হাদীউজ্জামান আজকের এ সময়ে একজন আদর্শিক রাজনীতিবীদ হিসেবে একটি জলন্ত উদাহরণ।

শেখ মুজিবের ৭৯ এর পূর্ব পাকিস্তান এর প্রাদেশিক পরিষদের গচঅ, ৭০ সালের গণপরিষদের গঘঅ হিসেবে বিপুলভোটে নির্বাচিত হয়ে সর্বকনিষ্ঠ রাজনীতিবীদ ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সাদামাটা জীবন যাপন, জনতার কাতারে এসে শেখ মুজিবের আদর্শকে সামনে এগিয়ে নেয়ার যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তারই প্রাপ্য হিসেবে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে ১৯৭৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু মুজিবের নৌকার মনোনয়ন পেয়ে যশোর-৪ নির্বাচনী এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সংসদের সংসদ সদস্যরা বঙ্গবন্ধুর সাথে পবিত্র সংবিধানে সোনার কালিতে স্বাক্ষর করেন। ঐতিহাসিক এই স্বাক্ষরের মধ্যে স্বর্ণের কালির স্বাক্ষর দেয়ার সৌভাগ্যবান পীরজাদা শাহ্ হাদীউজ্জামান এলাকার উন্নয়ন, গণমানুষের ভালোবাসা সব কিছুতেই পীরজাদার সাদামাটা স্বভাব।

আর আওয়ামীলীগের কর্মী-সমর্থকই শুধু নয় সকল পর্যায়ের মানুষ, যে কোন মতের হোকনা কেন সকলকেই তিনি দিয়েছেন সেবা ও সহযোগিতা। মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পেয়েছেন অকাতরে। সংসদ সদস্য (এমপি) থাকাকালিন বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ ¯েœহের হাদীর রয়েছে অনেক স্মৃতি যা শুধু পীরজাদাকে আষ্টেপৃষ্টে ধরে রেখেছে। আর যার কারনে তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আপাদমস্তক আওয়ামীলীগার হয়েই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে এখনও নিজেকে একজন নির্ভেজ্বাল আওয়ামীলীগার রাজনীতির এক আদর্শবান মহৎ মনের মানুষ হিসাবে এ সমাজ ও দেশকে সেবা দিয়ে গেছেন। আলাপকালে বঙ্গবন্ধুর কোন বিষয়ে তিনি বেশি করে আকর্ষিত হয়েছেন। এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, তিনি ছিলেন একজন মহামানব। যার স্মৃতি শক্তিছিলো সূর্যের রশ্মির মতো প্রখর, যার মানসিক মনোবল ছিলো পর্বত শৃঙ্গের মতো, যার বিশ্বাস ছিলো নিজেকে ভালোবাসার মতো দৃঢ়, যিনি নিজের প্রখর দৃষ্টি ছেড়ে দিয়ে আকাশের তারাগুলোকে নিমেষেই গুনে ফেলতেন।

যার মধ্যে ছিলো বাঙ্গালী জাতির সত্ত্বা। এ দেশকে ভালোবাসার এক নির্জলা-নিস্পাপ প্রেম। যে প্রেম দিয়ে তিনি শুধু ভালোবেসেছিলেন বাংলাকে, বাংলাদেশকে। আকর্ষনিয় মহাপুরুষ শেখ মুজিব শাহ্ হাদীউজ্জামানের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের একমাত্র ব্রত। একটি প্রসংগে পীরজাদা জানালেন, নাখালপাড়ার এমপি হোষ্টেলে থাকাকালিন সময়ে বাঘারপাড়ার বেকার যুবক জামদিয়া ইউনিয়নের রাজ্জাক এর জন্য একটি চাকরীর আবেদন নিয়ে যশোরের আওয়ামীলীগ নেতা শ্রদ্ধেয় মরহুম রওশন আলী সাহেবসহ তিনি গণভবনে যান। তখন বঙ্গবন্ধু গণভবনের লনে বসেছিলেন। রাজ্জাকের কথা বলতেই বঙ্গবন্ধু রাজ্জাকের গায়ে এক চড় মেরেই উনার পি এ অথবা পিএস-২ কে বললেন ওকে চাকুরীর ব্যবস্থা করে দাও। এরপর টিসিবিতে রাজ্জাকের চাকুরী হয়ে গেলো। কথা প্রসঙ্গে পীরজাদা জানালেন বঙ্গবন্ধুকে অনেক কথা বলার জন্য জন্য যখন সামনে উপস্থিত হতাম তখন উনার ব্যক্তিত্বের কাছে আমি সবকিছু ভূলে যেতাম। পীরজাদা জানালেন, হঠাৎ একদিন অধিবেশন চলাকালিন সময়ে বঙ্গবন্ধুর এক স্টাফ বললেন বঙ্গবন্ধু আপনাকে ডেকেছেন। আপনি কাল এয়াপোর্টে উপস্থিত থাকবেন।

তিনি কিছু না বুঝেই পরদিন এয়ারপোর্টে হাজির হলেন। ভিভিআইপি লাউঞ্জে যেতেই পীরজাদাকে নিয়ে যাওয়া হলো রানওয়েতে। তাকে দেখেই বঙ্গবন্ধু বলে উঠলেন, “ ও ইউ পীরজাদা” কোন কথা নেই হেলিকপ্টারে চড়ে বসলেন বঙঙ্গবন্ধু। সাথে তৎকালিন প্রধান সচিব রুহুল কুদ্দুস, তাহের উদ্দিন ঠাকুর, নুরুল ইসলাম, তোফায়েল আহমেদ, মোসলেম উদ্দিন, হাবু মিয়া। হেলিকপ্টার যখন আকাশে তখন বঙ্গবন্ধু হঠাৎ করেই গেয়ে উঠলেন, “ ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা…….” এক পর্যায়ে খুব গুরুগম্ভীর কন্ঠে বঙ্গবন্ধু তোফায়েল আহম্মেদকে লক্ষ্যকরে বলে উঠলেন, তোফায়েল তোমার আর আমার গায়ের চামড়া পুড়ে কালো হয়ে গেছে কিন্তু তাহের ঠাকুরের চামড়া কিন্তু সাদা। তার চামড়ার রং কিন্তু পাল্টানো যায়। দূরদর্শী মহান নেতার কথাই একদিন সত্যি হয়ে যাবে একথা আমরা কেউ বুঝতে পারিনি বললেন পীরজাদা। রাজনৈতিক জীবনের অনেক ঘটনা, রাষ্ট্রিয় পর্যায়ের অনেক ঘটনাবহুল স্মৃতি এখন পীরজাদার স্মৃতিপটে গাঁথা, যা লিখলে শত শত পর্বেও শেষ করা যাবেনা। দেশকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ-স্বনির্ভর সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সেই স্মৃতিগাঁথা দিনগুলোতে পীরজাদা এখনো ডুকরে ডুকরে কাঁদেন।

১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বাংলার মীরজাফর খন্দকার মোশতাক ও তাহেউদ্দিন ঠাকুরদের বর্বরোচিত ষড়যন্ত্রের বলি হলেন বাংলার জনক জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিব। স্বপরিবারে নরপিশাচরা তাকে হত্যা করে আওয়ামীলীগের এমপি ও নেতাদের উপর চালায় বিভিন্ন রকমের অত্যাচার। প্রদর্শন করে ভীতি। হত্যাকারীদের সাথে কোন সমঝোতা নয় এমন সিদ্ধান্তে অটল পীরজাদা কোন রকমে জীবন বাজি রেখে ঢাকা থেকে ফিরে আসেন নওয়াপাড়ায় আর অপেক্ষায় থাকেন হত্যার প্রতিবাদে আবার নতুন একটি সংগ্রামের প্রস্তুতি নেয়ার। কিন্তু শসস্ত্র হত্যাকারীদের ষড়যন্ত্রের কাছে আর সম্ভব হয়নি কোন প্রতিরোধ গড়ে তোলার।১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে দক্ষিনাঞ্চলের রাজনীতির আদর্শ পুরুষ পীরজাদা শাহ হাদীউজ্জামান কিংকর্তব্যবিমূড় অবস্থায় দিন কাটাতে থাকেন। কিংবদন্তি এই নেতা যোগাযোগ করতে থাকেন আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে। এরই মধ্যে মীর জাফর খন্দকার মোসতাকের পতনের পর সেনা শাসক জিয়াউর রহমানের শাসনামলে রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রাজপথের রাজনীতি চলে যায় সেনাকুঞ্জে।

ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন। উজ্জীবিত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক পরিবেশ। পীরজাদা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ডাকে ছুটে যান শেখ হাসিনার সাথে রাজনীতির মাঠে। সারা জীবনের লালিত স্বপ্ন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঝড় তোলেন। সেই ঝড়ের দীপ্ত প্রত্যাশার এক ঝলক আলোর দিশারীদের অন্যতম পীরজাদা শাহ হাদীউজ্জামান তার আদর্শিক রাজনৈতিক সংগ্রাম-এ মাঠে ময়দানে ছুটে বেড়িয়েছেন। হঠাৎ করেই সেনা বাহিনীর হাতে নিহত হন তৎকালিন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একই মাসের ৩১ মে। ক্ষমতার পালাবদল না হলেও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি মরহুম আব্দুস সাত্তারের সরকার হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ। কয়েক বছর সেনা শাসনের পর এরশাদের আমলে ১৯৮৬ সালে ঘোষনা করা হয় সংসদ নির্বাচনের। এ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ অংশ গ্রহণ করে।

শেখ হাসিনা দক্ষিনাঞ্চলের প্রার্থী বাছাইকালে বঙ্গবন্ধুর স্নেহভাজন বিশ্বস্ত সহচর শাহ হাদীউজ্জামানকে যশোর-৪ আসনে মনোনয়ন দেন। আর ঐ নির্বাচনে যশোরের ৬টি আসনের মধ্যে পীরজাদা শাহ হাদীউজ্জামান একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসায়। এরপর এরশাদ এর স্বৈরাচার বিরোধী রাজপথের আন্দোলনে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রদান করেন তিনি। ৮৯/৯০ এর গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা দক্ষিণাঞ্চলের আওয়ামীলীগের প্রাণ পুরুষ ব্যাপক ভূমিকা রেখে ঐ আন্দোলনের বিজয়ের এক গর্বিত নেতা হিসাবে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে একজন নির্ভেজাল আওয়ামীলীগার হিসাবে আবারও নিজেকে সমৃদ্ধ করেন। ১৯৯১ সালে বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি আবারও এমপি নির্বাচিত হন। জীবনের স্বর্নালী সময় গুলি রাজনৈতিক ঝান্ডার মধ্যেই অতিবাহিত করেছেন এই নেতা। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর হতে জিয়া ও এরশাদের শাসনামলে একজন পরিচ্ছন্ন জনপ্রিয় সর্বজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসাবে পীরজাদাকে আওয়ামীলীগ ত্যাগ করে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

শুধু তাই নয়। এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় পীরজাদাকে জেল-জুলুমের হুমকিও প্রদান করে স্বৈরশাসক এর সরকার। তবুও বিন্দু মাত্র টলেননি পীরজাদা। বঙ্গবন্ধুর স্নেহ আর বিশ্বাস এবং তার আদর্শকে হৃদয়ের গভীরে সযতেœ লালন করেছেন তিনি। দীর্ঘ জীবনে তিনি কখনো দলের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরী হতে দেননি। দলীয় বড় বড় পদের চাহিদা ছিল না কোন দিন পীরজাদার কাছে। একজন মুজিব সৈনিক হিসাবে আজীবন তিনি থেকেছেন জন মানুষের সাথে। একজন বিতর্কের উর্দ্ধের মানুষ, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ, পরীক্ষিত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, আজন্ম আওয়ামীলীগার হিসাবে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে শ্রদ্ধাভাজন একজন অভিভাবকের স্থান পেয়েছেন। তেৃত্ব দিয়েছেন যশোর জেলা আওয়ামীলীগকে। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর তিনিই একমাত্র নেতা যাকে যশোরের মত ঐতিহ্যবাহি জেলার জেলা পরিষদ প্রশাসকের দায়িত্ব অর্পন করেন শেখ হাসিনা।

এ যেন সেই বিশ্বস্ততার প্রতীক, আদর্শের পুরস্কার। সঠিক মানুষটিকে সঠিক মূল্যায়ন করার জন্য দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। দেশের মধ্যে যশোর জেলার অভয়নগরের নওয়াপাড়া পীরের ভূমি হিসাবে সমাদৃত, সর্বজনবিদিত মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর ওলি ইরানী পীর মরহুম হযরত খাজা মোহাম্মদ আলী শাহ (রহঃ) এর আবাসভূমি এই নওয়াপাড়া। আর সেই পীরের দৌহিত্র এবং মরহুম পীর কেবলা হযরত খাজা আব্দুল মজিদ শাহ (রহঃ) এর দ্বিতীয় পুত্র জীবন্ত রাজনৈতিক কিংবদন্তি শাহ হাদীউজ্জামান ৫ বার এমপিএ, এমএনএ এবং এমপি নির্বাচিত হলেও যে তিমিরের নেতা সেই তিমিরেই রয়ে গেছেন। যিনি সরকারী পাজেরো গাড়ীতে চড়ে জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছেন। একবার এমপি নির্বাচিত হলেই নাকি অঢেল সম্পদ আর কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া যায়। আর ৫ বার এমপি হয়েও তিনি সেই হাদীই থেকে গেছেন আমৃত্যু। সিক্ত হয়েছেন মানুষের ভালোবাসায়, আর শ্রদ্ধার বান ভেসেছে শাহ হাদীউজ্জামানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন।

যেসব খাবার খেলে দ্রুত সুস্থ হবে পক্সের রোগী
মা যাদের রান্না করে খাওয়াতেন তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রী
দুই স্কুলের আবারও সভাপতি হলেন ইমদাদুল হক ইমু
করোনা আতংকের মাঝেও বেপরোয়া বেনাপোল ও সাতক্ষীরা সীমান্তের সোনা পাচারকারীরা
ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি নৌবাহিনীর বৃক্ষরোপন অভিযান অব্যাহত
চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়নে টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে – আ স ম রব
সুস্থ হয়েছেন আফ্রিদি!
সাঙ্গাকারাকে ১০ ঘণ্টা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ
দৈনিক নওয়াপাড়ার প্রতিনিধি আশাশুনি প্রেসকাবের সদস্য মুকুল’র পিতার জানাযা সম্পন্ন
শার্শায় ইঞ্জিন চালিত ভ্যানের ধাক্কায় শিশু মৃত্যু
খুলনায় করোনা ও উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু : নতুন শনাক্ত ৯৩
বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশী মাদক ব্যবসায়ী নিহত
ঝিনাইদহে নসিমন উল্টে চালক নিহত
চৌগাছায় বিদ্যুৎ স্পর্শে এক ব্যক্তির মৃত্যু
ইতালি- ফ্রান্সের পর এবার ব্রাজিলেও পানিতে করোনাভাইরাস!
সুন্দরবনের বিষ দস্যুদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু
আগস্টেই বাজারে আসতে পারে ভারতের ভ্যাকসিন!
করোনায় মুক্তিযোদ্ধা খুরশিদ আলমের মৃত্যু
গরু দেখতে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষের ভীড় : খবর জানে না প্রাণী সম্পদ অফিস
সাহারা খাতুনকে থাইল্যান্ডে নেওয়া হচ্ছে সোমবার
ঢামেকের সিটি স্ক্যান বিভাগে রোগী নেই কেন? প্রশ্ন জাফরুল্লাহর
প্রধানমন্ত্রীকে যখন আমি পাটকলের বিষয়ে জানাই তখন মনে হলো উনি কাঁদছেন- মন্নুজান সুফিয়ান
‘গোয়াল ঘর আপনার গরু আমাদের’ লিখে গরু চুরি : গণপিটুনিতে নিহত তিন : আটক এক
যশোরের ৬টির মধ্যে ৪টিতে আসছেন বর্তমান এমপি
অভিযোগ বাক্স ঝুঁলিয়েছেন এমপি তন্ময় : আতংকে মাদক সিন্ডিকেট
করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির লক্ষে বিশেষ দোয়া ও লিফলেট বিতরণ করলেন- নওয়াপাড়ার গদ্দীনশীন পীর
সিপাই থেকে ওসি হয়ে শতকোটি টাকার পাহাড়! দুদকে অভিযোগ
কোথাও ঠাঁই নেই : কবরস্থানে মা- ছেলের বসবাস
অভয়নগরে চিকিৎসকের স্ত্রীর আত্মহত্যা
নওয়াপাড়ার ধোপাদী গ্রামে ৩ ইভটিজারকে গণধোলাই
যশোরের নতুন পুলিশ সুপার হলেন আশরাফ হোসেন
লোহাগড়া হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু রোগীকে বের করে দিয়েছেন সেবিকা কল্পনা ও সাধনা!
বাঘারপাড়ায় ধর্ষণের পর হত্যা করে জয়নবের লাশ ঘেরে ফেলেছে হাফেজ মুজিবুল
নিষিদ্ধ ঘোষিত এনার্জি ড্রিংক্স
যশোর শিক্ষাবোর্ডের সাড়ে ২৯ লাখ টাকা অপচয় বন্ধ করে দিলেন ড. মোল্লা আমীর হোসেন
রাজগঞ্জে কাজীকে ৬ মাসের জেল, মেয়ের পিতা চাচা ও স্বামীকে জরিমানা
কিস্তি দিতে না পারায় ধান ও পালিত শুকর নিয়ে গেছে সমিতির লোকেরা!
নওয়াপাড়ায় মাছ বাজারে ১ কেজি বাটখারার ওজন ৮শ’ গ্রাম :
ফুলতলায় র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ অভয়নগরের ৩ জন আটক
পথ দেখালো মডেল স্কুল :অনুসরণ করলো আল হেলাল: নওয়াপাড়ায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আবারও সংঘর্ষ : নদী সাঁতরে প্রাণ রক্ষার চেষ্টা
অভয়নগরে এই প্রথম করোনা রোগী শণাক্ত
 চোখের জল ফেলবেন নওয়াপাড়া শংকরপাশা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী সরোয়ার!

ই-পত্রিকা-কাগজে যেমন অনলাইনে তেমন

ePaper

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
প্রয়োজনীয় নাম্বার

অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা : ০১৭১৭৮১৩৩৪৪

নওয়াপাড়া রেলওয়ে মাষ্টার : ০১৭১৮৫৮১০৯৪

হাইওয়ে থানা ওসি : ০১৭৬৯৬৯০৪৫৯

UNO অভয়নগর : ০১৭৩৩০৭৪০৩৫

অভয়নগর থানা : ০১৭১৩ ৩৭৪১৬৭

ফায়ার সার্ভিস : ০১৭৩২ ৫৫০৪৬০

জাতীয় জরুরী সেবা : ৯৯৯

ফিচার এর আরও খবর

//