খুলনায় অবৈধ দখলদারদের নোটিশ দিয়েই দায় শেষ পাউবো’র!

খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নদী, খাল, সড়কসহ সরকারী সম্পত্তি অবৈধ দখল মুক্ত করতে কাজ শুরু করে খুলনা সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু মার্চ মাসে দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমন ধারা পড়ায় সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষনা করে। কয়েক দফা ছুটি বাড়ানো হয়। এজন্য সরকারের অন্যান্য স্বাভাবিক কার্যক্রম যেমন বন্ধ হয়ে যায় তেমনি অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ কার্যক্রম থমকে যায়।

এদিকে তদারকি না থাকায় অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হলেও অনেকে আবার সেসব স্থানে পুনরায় স্থাপনা তৈরি করছে। আর এসব দখলদারদের বিরুদ্ধে পাউবের (পানি উননয়ন বোর্ড) দখলদারদের একটি নোটিশ দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করছে। সরকার গত মাসে সবকিছুই স্বাভাবিক করে দিয়েছে। তাই এখন জনসাধারণের দাবি উঠেছে পুনরায় অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করার।

এলাকাবাসী জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের যোগসাজশে এক শ্রেনীর দখলবাজ চক্র নদীর পাড় দখল করে স্থাপনা তৈরি করেছে। খুলনা নগরীর ২৬টি খাল দখলমুক্ত এবং নগরীর পাশ দিয়ে বয়ে চলা বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়া উপজেলা সীমান্তের ময়ূর নদী দখলমুক্ত করতে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্তে এলাকাবাসী সঙ্গে আছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান থমকে যাওয়া খুবই দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তারা।

খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হিসেব মতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখলদার দুই হাজারের উপরে। এরমধ্যে বেশি দখলদার আড়ংঘাটা শলুয়া, শাহাপুর, থুকড়া, কুলবাড়িয়া, খর্নিয়া, মিকশিমিল, ডুমুরিয়া সদর, আমভিটা, বটিয়াঘাটার কৈয়া বাজার, সাচিবুনিয়া, সাহস, রাজবন্দ, কৃষ্ণনগর, চক আসানখালীসহ বিভিন্ন স্থানের জমি এসব দখলদাররা নিয়ন্ত্রণ করছে।

দখলদাররা অধিকাংশই প্রভাবশালী। তারা দখলকৃত জমিতে ইতোমধ্যেই বহুতল ভবন, মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মৎস্য খামার, মাছের ডিপো, মিল, কল-কারখানা, ইটভাটা নির্মাণ করছে। দখলদারদের বিরুদ্ধে মৌখিক এবং লিখিত নোটিশ প্রদান করলেও কোনও কাজে আসছে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নিতে পারছে না পাউবো কর্তৃপক্ষ। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে উচ্ছেদ অভিযানও বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে এসব দখলদারদের তালিকা করেই দায়িত্ব পালন শেষ করতে হচ্ছে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী, পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হয়নি। অবৈধ স্থাপনার তালিকা ধরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, খুলনা মহানগরীর পাশ দিয়ে বয়ে চলা ময়ূর নদীর দখলদার উচ্ছেদ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ হতে খুঁজুন

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১