অভয়নগরে লাঞ্ছিত হওয়ার পরও যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ভয়ে অভিযোগ করতে পারেন নি প্রধান শিক্ষক : শিক্ষার্থীদের ইউএনও অফিস ঘেরাও

অভয়নগরে যুবলীগ নেতা ও তার বাহিনীর সদস্যদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার পরও ওই বাহিনীর ভয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করতে পারেননি ধোপাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম। তিনি ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়লেও ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এদিকে প্রিয় শিক্ষকের লাঞ্ছিত হওয়ার খবরে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা গতকাল মঙ্গলবার সকালে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে।

 

এ সময় ইউএনও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে তারা বিদ্যালয়ে ফিরে যায়। তবে প্রধান শিক্ষক থানায় লিখিত অভিযোগ না দেয়ায় প্রশাসন থেকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এলাকাবাসী, প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানাগেছে, গত সোমবার আন্ত: স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতায় ধোপাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয় জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

 

এ সাফল্যে এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা উচ্ছ্বসিত হয়ে খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। ফলে ওইদিন সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের মাঠে খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেয়ার বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এক প্রস্তুতিমূলক সভার আয়োজন করে। ওই সভায় উক্ত যুবলীগ নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এমন অজুহাত তুলে প্রকাশ্যে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে।

 

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের কয়েক’শ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ হয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কমকর্তার কাছে বিচারের দাবি নিয়ে আসেন এবং তার কার্যালয় ঘেরাও করে ওই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকেন। এসময় শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা ওই যুবলীগ নেতা ও তার বাহিনীকে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবি ও চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে যুবলীগ নেতা রফিকুলের বিচার চাই; বিচার চাই বলে শ্লোগানের পর শ্লোগান দেয়। এসময় ওই যুবলীগ নেতার বিচার চেয়ে বক্তব্য রাখেন ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রউফ মোল্যা, বর্তমান পৌর কাউন্সিলর বিএনপি নেতা জাকির হোসেন।

 

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তপন বোসের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার অফিস কক্ষ থেকে নিচে এসে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন এবং বিচারের আশ্বাস দেন। পাশপাশি তিনি তাৎক্ষনিক অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি অবিহিত করে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। এসময় উভয়ের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ফিরে যান। এ বিষয়ে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুর রউফ মোল্যা জানান,

 

এলাকার এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও তার বাহিনীর সদস্যরা প্রধান শিক্ষকের গায়ে হাত তুলে লাঞ্ছিত করেছে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। ওই সন্ত্রাসী ও তার বাহিনীর অত্যাচারে এলাকার সাধারণ ও নিরীহ মানুষ অতিষ্ঠ। তাদের বিরুদ্ধে এলাকার কেউ মুখ খুললেই শুরু হয় নির্যাতন। তাই ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেন না। এতে এলাকার শিক্ষার পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে। আমি ঘটনার তদন্ত পূর্বক দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই।

 

এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ওসি মো: তাজুল ইসলাম জানান, ইউএনও মহেদয়ের ডাকে উপজেলা চত্বরে এসে দেখি কয়েক’শ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী অবস্থান করছেন। তাদের কাছে ঘটনা শুনে আমি বিদ্যালয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাই। এসময়ে আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ করতে বলি।

 

কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করতে রাজি হননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে ঘটনার বিষয়ে অদ্যবধি কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। সেই সাথে আগামীকাল বৃহস্পতিবার খুলনায় বিভাগীয় খেলায় অংশ গ্রহণও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ হতে খুঁজুন

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১